সরকারের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মাত্র এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে তিনি জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ২৭৪ বিধি অনুযায়ী ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিতে গিয়ে তিনি এই চ্যালেঞ্জ দেন।
আজ সকালে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে ময়মনসিংহ-১০ আসনের (বিএনপি) সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের উদ্দেশ্য করে একটি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘যাঁরা জুলাই চেতনা বিক্রি করত, তাঁদের অনেকেই আগে রিকশায় চড়তেন। এখন তাঁরা প্রাডো গাড়িতে চড়েন।
সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে আক্তারুজ্জামানের সেই বক্তব্যের জবাব দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এই শীর্ষ নেতা। ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আজকেও এই সংসদে জুলাই সংশ্লিষ্টদের তথা আমাদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে—আমরা আগে রিকশায় চড়তাম, এখন আমরা গাড়িতে চড়ি। সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলি, এখন সব গোয়েন্দা সংস্থা আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ, মিলিটারি—সবাই এখন আপনাদের অধীনে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে শুধু অভিযোগের টোনে অভিযোগ না দিয়ে, তদন্ত করে দেখুন। তদন্তে যদি আমার এক টাকার দুর্নীতি বা কোনো অসদুপায়ের প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি এই সংসদ থেকে সঙ্গে সঙ্গে ইস্তফা দেব।’
প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বরাদ্দ নিয়ে কথা বলেছিলেন। নোমান বলেন, ‘আপনাকে তো টাকা দেওয়া হবে না, টাকা দেওয়া হবে এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য। সে জন্য আপনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যেভাবে যেভাবে পেয়েছেন, অভিযোগ আদান-প্রদানে অনেক কিছু বলা যাবে। টাকা কোনো ব্যক্তি বা এমপিকে দেওয়া হয় না। এমপিরা বরাদ্দ নিয়ে কিছু করে না।’
সাঈদ আল নোমানের এই বক্তব্যেরও ব্যাখ্যা দেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার নাম ধরে বলা হয়েছে, তাই স্পষ্ট করা দরকার। আমি আমার বক্তব্যের কোথাও বলিনি যে আমাকে যেন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়। আমি শুধু বলেছিলাম, আমার বক্তব্যের কারণে যেন আমার এলাকার সাধারণ মানুষকে কোনো বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা না হয়।’