হোম > জাতীয়

চীন-পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থায় ঝামেলা বাড়বে

সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা 

ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকার চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগে বাংলাদেশকে ‘যুক্ত’ করায় দেশ দুটি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ কিছু দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ঝামেলা বাড়বে। এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পাশাপাশি সরকারের অনেকটা আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে সরকারের ভেতরে-বাইরে বৈদেশিক সম্পর্ক, কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

বেসরকারি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমার ঘোষণা হওয়ার পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার বহির্ভূত। আর এ সিদ্ধান্তটি নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সরকার অস্বচ্ছতার আশ্রয় নিয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, ‘তিন দেশের বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্যোগের আওতায় কর্মক্ষেত্রের যে তালিকা দেওয়া আছে, তাতে চিন্তাভাবনা না করে হঠাৎ এ উদ্যোগে সাড়া দেওয়া হয়েছে, এটা মনে হয় না। আগেভাগে কিছু আলোচনা না হলে ‘যৌথ কর্মদল’ (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ) গঠনের বিষয় আসারও কথা নয়।’

বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার চীনের কুনমিংয়ে একটি বৈঠকের পর অন্তত পাঁচটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা ব্যবস্থা শুরুর কথা জানায়।

বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রুহুল আলম সিদ্দিক, চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাই ওয়েইডং ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী কুনমিংয়ের বৈঠকে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ অনলাইনে বৈঠকের প্রথম পর্যায়ে যোগ দেন।

পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করে আসা রুহুল আলম সিদ্দিক শনিবার থেকে অবসরে গেছেন। ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী এর আগে বাংলাদেশে হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন।

চীন ও পাকিস্তান শুক্রবার, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার রাতে পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, কুনমিংয়ে নবম চীন-দক্ষিণ এশিয়া প্রদর্শনী এবং ষষ্ঠ চীন-দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা বৈঠকের পাশাপাশি বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তান একটি ‘অনানুষ্ঠানিক’ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি সূত্রের দাবি, মাস দু-এক আগে এ বৈঠকের অনুরোধ চীনের কাছ থেকে এলেও এর নেপথ্য উদ্যোক্তা সম্ভবত পাকিস্তান। শুরুতে এ বৈঠকে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকার ভেতরে-ভেতরে দোদুল্যমান ছিল। কুনমিংয়ে অন্য কর্মসূচিতে সফরে যাওয়ার আগে শেষ মুহূর্তে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিবকে ত্রিপক্ষীয় এ বৈঠকে যোগ দিতে বিদেশ থেকে সবুজ সংকেত দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

দিল্লি ও ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বে থাকা দু’জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় তাঁদের জানা ও জানানোর কথা থাকলেও তাঁদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে।

ত্রিপক্ষীয় এ বৈঠকের বিষয়ে কথা বলতে আজকের পত্রিকা থেকে রুহুল আলম সিদ্দিকের সঙ্গে শনিবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিরুত্তর ছিলেন।

সরকারি একটি সূত্রের দাবি, যৌথ কর্মদল গঠনসহ যেসব বিষয় আলোচনায় এসেছে ও তিন দেশের বিজ্ঞপ্তিতে আছে, সেগুলো বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ‘শুনে’ এসেছে। ‘জোট’ অথবা ‘ব্যবস্থা’ কোনো কিছুতেই সিদ্ধান্ত বা সম্মতি দিয়ে আসেনি।

‘অনানুষ্ঠানিক’ হওয়ায় এ বৈঠকে আসা আলোচনার বিষয়বস্তু বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আপত্তি ছিল। বাংলাদেশ বলেছে, যদি কোনো দেশ বিজ্ঞপ্তি দেয়, তা যেন আগে অন্য দুটি দেশকে জানায়। চীনারা নিজেদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে বাংলাদেশকে দিলেও পাকিস্তান মোটেই দেয়নি। তিনি এ পরিস্থিতিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

কুনমিংয়ের বৈঠকটি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে ‘অনানুষ্ঠানিক’ হিসেবে দাবি করা প্রসঙ্গে মুনীরুজ্জামান বলেন, এ দাবিটি স্বচ্ছ নয়। যে পর্যায়ে (পররাষ্ট্রসচিব) ও যেভাবে বাংলাদেশ এ বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেছে, তাতে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের দাবিটি ধোপে টেকে না।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, চীনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় এটাই প্রথম একাধিক দেশকে জড়িয়ে নেওয়া শক্ত, কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ। যেসব বিষয় বিজ্ঞপ্তিতে আছে, তার মধ্যে সমুদ্র ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (থিংক ট্যাংক) নিয়ে তিন দেশের কাজ করার আগ্রহের ব্যাপক তাৎপর্য আছে। এ বিষয়গুলো তিন দেশেরই প্রতিবেশী ভারত, বৈশ্বিক দিক থেকে প্রভাবশালী যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর বিষয়ে আগ্রহী দেশগুলোর নজরের বাইরে থাকার কথা নয়।

ভারতে বাংলাদেশের সাবেক একজন হাইকমিশনার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এমনিতেই সমস্যার শেষ নাই। কেন আমরা (বাংলাদেশ) নতুন সমস্যা যোগ করছি!’

অন্য একজন কূটনীতিক বলেন, এ উদ্যোগের ‘অংশ নিয়ে’ ভবিষ্যতে পিছিয়ে যাওয়াও চীনের সঙ্গে ঝামেলা তৈরি হতে পারে।

অন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ে নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ত্রিপক্ষীয় এ উদ্যোগটির ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য আছে। এ রকম একটি কৌশলগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের আছে কি না, সে প্রশ্ন তিনি শনিবার রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তোলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির এই অধ্যাপক বলেন, সংস্কার ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের মূল কাজ। তিন দেশের একটি উদ্যোগে সাড়া দেওয়ার মতো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অংশীজনদের কারও সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের জন্য তুলে রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

আরও খবর পড়ুন:

সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার: মানতে হবে এআই ব্যবহারসহ ৭টি বিধি

হাদি হত্যায় অভিযুক্তের ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া গেছে: মন্ত্রণালয়

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জয়শঙ্করের সফরে ‘রাজনীতি’ না খোঁজাই ভালো, আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে আরশাদুর রউফ

স্ত্রীসহ সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব সরকারের ২৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে পথচারীর মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদনে যা আছে

এনইআইআর চালু করায় বিটিআরসি ভবনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা-ভাঙচুর

পদত্যাগের দুদিন পর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান

জনসমক্ষে ধূমপানে জরিমানা ২০০০ টাকা, অধ্যাদেশ কার্যকর

জনতা ব্যাংকের ৩০০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমানসহ ৯৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন