২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলের করা মিছিলকে ‘মবোক্রেসি’ আখ্যা দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারদলীয় সদস্য বিথিকা বিনতে হোসাইন। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের কার্যবিবরণী থেকে শব্দটি বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েও সাড়া পায়নি জামায়াতে ইসলামী।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে।
১১ জুন সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট উত্থাপনের পর সন্ধ্যায় তা প্রত্যাখ্যান করে রাজধানীতে মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী। সরকারি দল বিএনপি বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করে। অতীতেও বাজেটের পক্ষে-বিপক্ষে বিরোধী দলকে মিছিল করতে দেখা গেছে। তবে বিথিকা বিনতে হোসাইন বিরোধী দলের এবারের মিছিলকে মবোক্রেসি হিসেবে আখ্যা দেন।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিথিকা বলেন, বিএনপিবিরোধী শিবিরও প্রস্তাবিত এই বাজেটকে চিন্তাশীল বলতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু সেখানে বিরোধী দলে যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা কখনো বলার চেষ্টা করছেন ‘ছায়া বাজেট দিয়ে সাহায্য করেছেন,’ আবার দেখা যায়, তাঁরা বাজেট প্রকাশিত হওয়া অবস্থায় একটা ব্যানার নিয়ে ‘মানি না, মানব না’ বলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেছেন। এটা একটা মবোক্রেসি। কখনো বলছেন—‘গরিব মারার বাজেট’, কখনো বলছেন—‘বিনিয়োগের পরিবেশ নেই’, আবার কখনো তাঁরা গণতান্ত্রিক বাজেটে অনিয়ম লক্ষ করছেন।
বাজেট প্রত্যাখ্যান করে করা মিছিলকে মবোক্রেসি বলায় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান শেরপুর-১ আসনের জামায়াত দলীয় এমপি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। তিনি বলেন, বাজেট প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত ইসলামী যে মিছিল করেছে, প্রতিবাদ করেছে, তাকে মবোক্রেসি বলা হয়েছে। শব্দটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।
স্পিকার এই অনুরোধ নাকচ করে বলেন, ‘মবোক্রেসি এখন বহুল ব্যবহৃত শব্দ। এটা কোনো অশ্লীল শব্দ না। এটাকে অসংসদীয় মনে করি না। আপনারাও এ বক্তব্য ব্যবহার করতে পারেন। গণতন্ত্রের বিপরীত শব্দ হিসেবে, এটা রাজনীতিতে নিন্দনীয় হতে পারে, অশ্লীল শব্দ নয়।’
পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসলে মবোক্রেসি শব্দটা কোনো ভালো অর্থ বহন করে না। অবশ্যই আপত্তিকর শব্দ। কারণ, এই ধরনের বাজেটের প্রতিক্রিয়া আমরাই করিনি। বাজেটে প্রত্যাখ্যান করে মিছিল অতীতে জামায়াতও করেছে, বিএনপিও করেছে। অনেকেই করেছে। তাইলে কি সবই মবোক্রেসি ছিল? শব্দটা এখানে বেমানান। এক্সপাঞ্জ করা উচিত।’
তবে স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতার দাবিতেও সাড়া দেননি।