হোম > জাতীয়

সৌরশক্তি উৎপাদনের যন্ত্র আমদানিতে ৬ মাসের শুল্কছাড়

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

চলমান বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে ছয় মাসের জন্য শুল্কছাড় দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধায় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

আজ রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে এক শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হবে। বিদ্যুতের ঘাটতির ফলে জনজীবনে সৃষ্ট ভোগান্তি কমবে‌। শিল্প উৎপাদন অব্যাহত থাকবে এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে।

এদিকে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য (প্রতি ১০ শলাকা) ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’-এর স্থলে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ পুনর্নির্ধারণ করে সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা-সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য ও রাজস্বের ঘাটতি কমবে।

বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে ‘প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

এই চুক্তি হলে উভয় পক্ষের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারের এই পদক্ষেপ নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে; যা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষের বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

সরকার বলছে, চুক্তিটি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষ চুক্তি সংশোধন করতে পারবে। চুক্তিটি সই হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য একটি কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।