বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন আছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রোববার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়ারেছের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান তিনি।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন আছে। একজন শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা অবসর ভাতা পেয়ে থাকেন। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে অবসর তহবিলে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি রয়েছে। যেখানে ঘাটতি ৭ হাজার ৪১০ কোটি টাকা।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে গত ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার এককালীন বরাদ্দ প্রয়োজন। সরকার এরই মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
এ ছাড়া আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর জন্য সফটওয়্যার পুনরায় চালুকরণ, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সরাসরি, শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসেবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা হওয়া ৬৪ হাজার ৭৭৫ পেন্ডিং আবেদন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সম্ভাব্য ১৫ হাজার ৫৪৫টি আবেদনসহ মোট ৮০ হাজার ৩২০টি আবেদন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৯ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা প্রয়োজন। চলতি অর্থবছরে প্রাক্কলিত আয় ২ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা হলেও অবশিষ্ট প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তারের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে তিনটি সরকারি ও ৮ হাজার ২২৯টি নন-এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিকীকরণের ক্ষেত্রে ধারবাহিক অগগ্রতি অর্জন করে চলেছে এবং বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।