সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য প্রচার ও অন্যকে হেনস্তামূলক পোস্ট প্রচার থামাতে একটি আইনজীবী প্যানেলের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ কাঠামো গঠন করছে সরকার। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা যে কেউ ডিসইনফরমেশন, মারাত্মক মিথ্যা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে পারি। এগুলো প্রতিরোধে ও আইনি সুরক্ষা দিতে একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন সম্পূর্ণ হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জনগণের হয়তো জ্ঞানের অভাব রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকার চুপ করে বসে থাকতে পারে না। সরকার একদিকে সবাইকে সতর্ক করার চেষ্টা করবে, অন্য দিকে আইনি ব্যবস্থাও নেবে। তার আগে সবাইকে সতর্ক করে দিচ্ছি। গণমাধ্যমের এক ধরনের এডিটরিয়াল প্রসেস আছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে যেহেতু নাই সবাইকে একটু বুঝে করতে হবে। ডিসইনফরমেশন, সাইবার বুলিং এই রাষ্ট্র সহ্য করবে না ‘
সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবেও এই আইনজীবী প্যানেল অপতথ্য প্রতিরোধে কাজ করবে বলে জানান উপদেষ্টা।
চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, গত বছর জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ১৭ হাজার ২১৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল, মারা গিয়েছিলেন ৬২ জন। চলতি বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৫৭ জন, মারা গেছেন ৩৭ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অর্ধেক কমেছে।
সরকার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন করে ১৪টি কোম্পানির সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করেছে বলে জানান উপদেষ্টা। এ ছাড়া ১৫০ কূপ খননে বিগত সরকারের সময় নেওয়া একটি পরিকল্পনার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৯টি কূপ খনন সম্পন্ন হওয়ার তথ্য দেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, এসব কূপ থেকে দৈনিক ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নিশ্চিত করা গেছে যার মধ্যে দৈনিক ১২৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হচ্ছে। আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ অবশিষ্ট ১২১টি কূপ খননের মাধ্যমে দৈনিক ১৪৯১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান তিনি।
উপদেষ্টা আরও জানান, বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন উপকূল থেকে ১৪৭টি সামুদ্রিক শৈবাল প্রজাতি শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এর মধ্যে ১২টি নমুনা বিশ্লেষণ করে আগার, ক্যারাজিনান ও এলজিনেট নিষ্কাশনের কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। টিস্যুকালচারের মাধ্যমে শৈবালের চারা উৎপাদন এবং মহেশখালী চ্যানেল, রেজুখালনদী ও বোরি সমুদ্র উপকূলে সফলভাবে পরীক্ষামূলক ও পাইলটভিত্তিক চাষ শুরু হয়েছে। এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বাস্তবায়নে খাদ্য, ওষুধ ও শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সেন্টমার্টিন থেকে মধ্য-উপকূল পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার গবেষণায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভারী খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রধান খনিজগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেটাইট, ইলমেনাইট, রুটাইল, জিরকন ও গার্নেট, যা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা এলাকার সার্ভে ফলাফল অনুযায়ী গ্রস হিসাবে প্রাপ্য মূল্যবান ভারী খনিজের অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় উপকূল অঞ্চলের পশ্চিম দিকের ব্লু-কার্বন ইকোসিস্টেমের মাটিতে সবচেয়ে বেশি কার্বন (প্রতি একরে প্রায় ১৬০ মেগা গ্রাম কার্বন) সঞ্চিত আছে এবং পূর্বদিকের মাটিতে প্রতি একরে প্রায় ১২৪ মেগাগ্রাম কার্বন বিদ্যমান রয়েছে। বিওআরআইএর হিসাব অনুযায়ী মহেশখালী চ্যানেল ও নাফ নদীর কার্বন সিংকের পরিমাণের হেক্টরপ্রতি আর্থিকমূল্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৯৬ ডলার।