‘র্যাব-৮-এর অভিযানের সময় যদি কোনো গুলি খরচ হতো তা রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করা হতো। তবে জিয়াউল আহসান কিছু অতিরিক্ত অস্ত্র-গুলি আমাদের দপ্তরে দিয়ে রেখেছিলেন। যার কোনো হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো না। এই অতিরিক্ত অস্ত্র-গুলিগুলো আনা হয়েছিল ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার জব্দ করা আলামত থেকে।’
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর জেরায় এসব কথা বলেন মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী। তাঁকে জেরা করেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান।
আওয়ামী লীগের দেড় দশকে শতাধিক মানুষকে গুম-খুন ও নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জবানবন্দি দেন ওসমানী। বরখাস্ত হওয়া সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের উপস্থিতিতে তাঁর নির্দেশে ২৪ জনকে খুনের বর্ণনা দিয়েছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী ওসমানী। তিনি বর্তমানে খুলনাতে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডেপুটি এক্সাম কন্ট্রোলার হিসেবে কর্মরত।
জেরায় সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, জিয়াউল আহসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রকাশ্যে এবং গোপনে র্যাবে থাকতে লিখিতভাবে কিছু জানাননি তিনি। তবে সেনাবাহিনীতে ফেরত আসার পর বিষয়টি সেনা প্রধানকে মৌখিকভাবে জানান।
জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি ওই বিষয়ে প্রকাশ্যে বা গোপনে লিখিতভাবে তাঁর ঊর্ধ্বতন কোনো কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি। কারণ হিসেবে তিনি ‘ভয়’ পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন।