শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশ। কাজেই শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) হিসেবে রূপান্তরের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগ বিলম্বিত হচ্ছে। তবে অচিরেই ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আর এই নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষায় প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করে উৎসাহ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য গোলাপি সাইকেল উপহার দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে।
কুয়েট প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করেছিলেন। এর মধ্যে একটি আজকের খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশ সেবায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই প্রকাশ্যে বা গুপ্ত অবস্থায় রাজনীতি করা যাবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক মেডিকেল সেন্টার ও ৫-১০টি বৈদ্যুতিক বাস দেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।
এ ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী ও অধ্যাপক ড. হাসান আলী।
বেলা সাড়ে ১২টায় অডিটরিয়ামের সামনে প্রীতি সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন, আনন্দ র্যালি, স্টল পরিদর্শন, ‘কুয়েটের অর্জন (ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ)’ বিষয়ক উপস্থাপনা, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নিচতলায় পোস্টার বা প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন, একই সময়ে দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবসমূহ উন্মুক্ত রাখা হয়। বিকেল ৪টায় শিক্ষক বনাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া, সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।