আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনসাধারণকে নানা ধরনের নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বিশেষ করে সীমান্তমুখী পশুর চামড়াবাহী যানবাহন দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
আজ মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় পশুর চামড়াবাহী যানবাহন সীমান্তের দিকে গেলে তা পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। এ ধরনের সন্দেহজনক কোনো যানবাহন দেখলে স্থানীয় পুলিশ বা ৯৯৯ নম্বরে খবর দিতে বলা হয়েছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতেও নানা পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এতে বলা হয়, শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে আগে থেকে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে হবে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা স্টিমারের ছাদে এবং ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে চাপ না দেওয়া, ক্লান্ত বা অপেশাদার চালকের হাতে গাড়ি না তুলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে নছিমন, করিমন ও ভটভটির মতো ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে চলাচল থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পুলিশ বলেছে, যাত্রাপথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও প্রতারক চক্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়েও নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এতে বলা হয়, মহাসড়ক বা রেললাইনের পাশে পশুর হাট বসানো যাবে না এবং ট্রাক, লঞ্চ বা ট্রলারে অতিরিক্ত পশু পরিবহন করা যাবে না। পশুবাহী যানবাহনের সামনে গন্তব্য ও হাটের নাম উল্লেখ করে ব্যানার টানিয়ে রাখারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, পশুর হাটে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজনে পুলিশের কারেন্সি এসকর্ট সুবিধা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাল টাকার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সন্দেহজনক নোট পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর কথা বলা হয়েছে।
মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় লেনদেনের সময় গোপন পিন নম্বর কাউকে না জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, হাইওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ, র্যাব ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।