হোম > জাতীয়

খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইন ঢেলে সাজানোর দাবি টিআইবির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: সংগৃহীত

খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইন অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে আইনটি ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ সদস্যের সমন্বয়ে সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বেসরকারি পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি বা মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুজনকে অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। তাঁরাও সরকার কর্তৃক মনোনীত হবেন।

এ ধরনের কাঠামো হলে সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল সরকারের সরাসরি কর্তৃত্বাধীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর মতে, এতে কোনো ধরনের জবাবদিহি ছাড়াই আইনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা ও যথেচ্ছ প্রয়োগের ক্ষমতা কাউন্সিলের হাতে চলে যেতে পারে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ ধরনের ধারাগুলো ঢেলে সাজিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করতে হবে।

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন সাপেক্ষে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করারও প্রস্তাব দিয়েছে টিআইবি।

খসড়া আইনে কাউন্সিলের সদস্যসহ আইনের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘সরল বিশ্বাসে’ করা কর্মকাণ্ডের জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্তির বিধানেরও সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের দায়মুক্তি ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

টিআইবি বলছে, খসড়া আইনটি প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সাইবার পরিসর অবারিত নজরদারি, জবাবদিহিহীনতা ও নিপীড়নের ক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে জনগণের সাইবার পরিসরে প্রবেশাধিকার সরকারের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রিত হতে পারে এবং ভিন্নমত দমনসহ মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সব নাগরিকের সাইবার সুরক্ষার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে টিআইবি বলেছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে খসড়া আইনটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন করতে হবে।