হোম > জাতীয়

পাহাড়ের জমি অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ পার্বত্যমন্ত্রীর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সাচিং প্রু জেরী। ছবি: আজকের পত্রিকা

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জমি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য, বৃক্ষ ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের মাধ্যমে পাহাড়ের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী।

সাচিং প্রু জেরী বলেন, ‘পাহাড়ে এমন ধরনের বৃক্ষ ও কৃষিপণ্য নির্বাচন করতে হবে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং পাহাড়ের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।’

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঢাকার সবুজায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ফলদ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার শেকড় ও গ্রীনওয়াচ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পার্বত্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড়ে সাধারণত কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। এর পাশাপাশি কাজুবাদাম, কফি ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য চাষের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। এসব পণ্য দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে।’

সাচিং প্রু জেরী বলেন, ‘নরসিংদী থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লটকন উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। পাহাড়েও এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে কাজ করা গেলে পাহাড়ের বিস্তীর্ণ জমিকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।’

পাহাড়ে প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মতো উচ্চমূল্যের প্রাণিসম্পদ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মসলাজাতীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে।’

পাহাড়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করবেন বলেও জানান। সাচিং প্রু জেরীর মতে, কোন ধরনের বৃক্ষ, কৃষিপণ্য ও প্রাণিসম্পদ সবচেয়ে কার্যকর ও লাভজনক হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

রাজধানীর সবুজায়ন প্রসঙ্গে সাচিং প্রু জেরী বলেন, ‘ছাদবাগান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নগরের সবুজায়নের মতো বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। ঢাকাকে আরও সবুজ ও বসবাসযোগ্য করতে কোথায় কী ধরনের গাছ লাগানো প্রয়োজন, কীভাবে সবুজায়ন বাড়ানো যায় এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়—এসব বিষয়ে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে।’

পার্বত্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিশু গাছ বা নিম্নমানের গাছ বড় হওয়ার পর মূলত জ্বালানি কাঠ কিংবা সীমিত পরিসরে কমমূল্যের আসবাব তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ভালো ও মূল্যবান প্রজাতির গাছ লাগানো হলে সেগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি থাকে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি উন্নত ও মূল্যবান প্রজাতি নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা শেকড়ের ট্রাস্টি হাজী মোতালেব মাশরাকির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন গ্রীনওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুইয়াঁ ও কৃষিবিদ ড. মেহেদি মাসুদ প্রমুখ।