জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যেকোনো সময় তা প্রকাশ করা হবে।
আজ সোমবার রাতে আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত করে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গেজেট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দিয়েছিল জামায়াত জোট। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংক হতে চাকরি ছাড়ার তিন বছর না হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে তিনি আপিল করেন ইসিতে। সেখানেও রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। পরে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মনিরা শারমিন।
আজ বেলা ৩টা পর্যন্ত হাইকোর্টে আপিলের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও বেঞ্চের একজন বিচারক তা শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আগামীকাল মঙ্গলবার অপর একটি বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালত থেকে কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে জারি করা গেজেট বাতিল বা সংশোধন করতে হবে। আইনে সে সুযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা জানি না, উনি (মনিরা শারমিন) শুনানি করবেন কি না। আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। আদালত যদি কোনো সিদ্ধান্ত দেন, আমরা সেটা মেনে নেব।’
অন্যদিকে গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় বিকেল ৪টার (১৯ মিনিট পরে) পর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন নুসরাত তাবাসসুম। কিন্তু তা গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে হাইকোর্টের নির্দেশনা পেয়ে নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ইসি।
যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল রোববার নুসরাত তাবাসসুমকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে ইসি। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আজ নুসরাত তাবাসসুমকে সংরক্ষিত নারী আসনে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান।
এদিকে গতকাল মনিরা শারমিন ইসিকে একটি চিঠি দেন। যেখানে তিনি তাঁর মামলাটির শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসনের অন্য প্রার্থীর যেন গেজেট না হয়, সে অনুরোধ জানান।
৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯টির এমপিরা গতকাল রাতে শপথ নিয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬, জামায়াত জোটের ১২ ও স্বতন্ত্র জোটের একজন শপথ নেন। সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।