সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক তাঁর মা, ভাই ও বোনের প্লট বরাদ্দে অনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন। প্লট পেতে তিনি বিদেশ থেকে শেখ হাসিনাকে বারবার ফোন দিয়ে প্ররোচিতও করেন। টিউলিপ সিদ্দিকের বোন আজমিনা সিদ্দিক ও তাঁর ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের প্লট বরাদ্দ-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার রায়ে এ কথা বলেছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম আসামি আজমিনা ও রাদওয়ানের নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির পৃথক দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেন। দুটি মামলার প্রতিটিতে দুই বছর করে টিউলিপ সিদ্দিককে চার বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
গত ১ ডিসেম্বর টিউলিপ সিদ্দিকের মা শেখ রেহানার প্লট বরাদ্দে দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলার রায়ে টিউলিপকে দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থাৎ তিন মামলায় তাঁকে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দি, তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলায় জব্দ করা বিভিন্ন দলিলপত্র অনুযায়ী স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে—টিউলিপ সিদ্দিক অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর মা, ভাই ও বোনের নামে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন।
আদালত রায়ে আরও বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনকে মা, ভাই ও বোনের নামে প্লট বরাদ্দ দিতে প্রভাবিত করেছেন। তিনি বিদেশ থেকে বারবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ও তাঁর একান্ত সচিব সালাহ উদ্দিনকে ফোন করে প্লট বরাদ্দ দিতে প্ররোচিত করেন। এ ছাড়া দেশে এসেও তিনি সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে প্লট বরাদ্দ দিতে চাপ সৃষ্টি করেন।
মা-ভাই-বোন রাজউকের প্লট বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও তিনি কর্তৃপক্ষকে প্লট বরাদ্দ দিতে প্রভাবিত করায় ফৌজদারি অপরাধ করেছেন বলে প্রমাণিত হয়।
অনৈতিকভাবে সরকারি সম্পদ বরাদ্দ নিয়ে দখলে নেওয়ায় প্ররোচিত করার কারণে টিউলিপ সিদ্দিক দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর একান্ত সচিবকে প্ররোচিত করায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে আদালত রায়ে বলেছেন। তিনটি মামলায় নিজের নামে প্লট বরাদ্দ না নিয়েও মা, ভাই ও বোনের নামে নেওয়ায় সাজা পেয়েছেন টিউলিপ।
উল্লেখ্য, দুই মামলায় শেখ হাসিনাকে ১০ বছর, এক মামলায় আজমিনাকে সাত বছর ও এক মামলায় রাদওয়ানকে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই মামলায় রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে এবং সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রীকেও সাজা দেওয়া হয়।