রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বন্ধুত্ব’-এর আকাঙ্ক্ষাকে ভূ-রাজনৈতিক চাল হিসেবে অভিহিত করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার।
ফেসবুক পোস্টে ফরহাদ মজহার দাবি করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আগ্রহে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি কোনো নতুন সম্পর্ক নয়, বরং একাত্তরের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান জান্তার গণহত্যার সময় যুক্তরাষ্ট্র নীরব ছিল। মজহারের মতে, জামায়াত তখন সরাসরি গণহত্যার পক্ষে থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে (সোভিয়েত ও চীন বিরোধী নীতি) যুক্তরাষ্ট্র তাদের ত্যাগ করেনি। আজকের এই সম্পর্ক সেই পুরোনো সমীকরণেরই একটি নতুন পর্যায়।
সম্প্রতি ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কূটনীতিক জামায়াতকে একটি ‘মধ্যপন্থী ইসলামী দল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য সাফল্যের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ফরহাদ মজহারের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় যুক্তরাষ্ট্র মনে করে জামায়াতের মতো একটি সামাজিকভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ দল তাদের দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের চীন মোকাবিলা নীতি বা ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নে সংগঠিত ইসলামপন্থী শক্তিকে একটি কার্যকর ‘ম্যানেজেবল ফ্যাক্টর’ হিসেবে দেখা হয়। এখানে মানবাধিকারের চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক চাপই মুখ্য।
ফরহাদ মজহার মনে করেন, বর্তমান দ্বন্দ্বটি আর জনগণ বনাম ফ্যাসিবাদ নেই; এটি এখন দিল্লির আধিপত্য বনাম মার্কিন আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে। দিল্লি যেখানে বিএনপি বা তথাকথিত ‘সেকুলার’ শক্তিকে সমর্থন দিচ্ছে, সেখানে ওয়াশিংটন জামায়াতকে তাদের বলয়ে টানার চেষ্টা করছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট একটি ‘সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব’ ঘটেছে বলে দাবি করেন ফরহাদ মজহার বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে পুরোনো লুটেরা ব্যবস্থাকেই আবার বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তাঁর ভাষ্যমতে, জামায়াত যত সুন্দর নৈতিকতার কথাই বলুক না কেন, বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতরে থাকলে লুটপাট চলবেই। সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং সমস্যা খোদ রাষ্ট্র ব্যবস্থার।
যতদিন জনগণের প্রকৃত সার্বভৌমত্ব এবং গাঠনিক ক্ষমতা তৈরি না হবে, ততদিন বিদেশি পরাশক্তিরা এবং তাদের দেশীয় সহযোগীরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দরকষাকষি করতেই থাকবে। যোগ করেন ফরহাদ মজহার।