জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তারা সবচেয়ে দুর্ভেদ্য বলে মনে হওয়া কাঠামোকেও বদলে দিতে পারে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফেসবুকে ইউনূস সেন্টারের ভেরিফাইড পেজের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে জুলাইয়ের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ‘গণমানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী এই জুলাই। আমাদের স্মৃতিতে জুলাই দীর্ঘ ৩৬ দিনের এক ঐতিহাসিক মাস। অন্যায়ের বিরুদ্ধে পুরো জাতি সেদিন কী ভীষণ শক্তি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তা আজও আমাদের গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।’
জুলাই আন্দোলনকে কোনো একক গোষ্ঠীর নয়, বরং সর্বস্তরের মানুষের অভ্যুত্থান হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এই আন্দোলনে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, লেখক, শিল্পী এবং প্রবাসীরা যে যার জায়গা থেকে সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কণ্ঠ মিলিয়েছেন।
বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ ও তথ্য তুলে ধরা সাংবাদিক-আলোকচিত্রী, দিনরাত সেবা দেওয়া চিকিৎসক এবং রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেন।
আন্দোলনে নারীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, জুলাইয়ে নারীরা যে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছেন, তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অনন্য ও ঐতিহাসিক নেতৃত্ব আগামী দিনের তরুণদের জন্য সব সময় সাহসের উৎস হয়ে থাকবে।
বিবৃতিতে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে সবচেয়ে শক্ত বা দুর্ভেদ্য বলে মনে হওয়া কাঠামোকেও বদলে দেওয়া সম্ভব। ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে বাংলাদেশ যে গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করেছে, তা যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখার দৃঢ় সংকল্প নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।