ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, সংযোগ নয়, গুণগত ও অর্থবহ কানেকটিভিটিই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে এআই, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ৫ জিসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির (এপিটি) ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭ তম সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গত জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে এবং ১০৮ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক ৪জি সেবা ব্যবহার করছেন। দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ৪জি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। এখন শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেকটিভিটি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন) এডব্লিউজি-৩৭ সভা আয়োজন করেছে। এপিটির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সভা চলবে ৭-১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সভায় এপিটি সদস্যভুক্ত বিভিন্ন দেশের মোট ৩৯৫ জন (সরাসরি ১৬৮ জন এবং ভার্চুয়ালি ২২৭ জন) প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। পাঁচ দিনে দুইটি প্লানারি সভাসহ মোট ৫২টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ সেশনগুলোতে ৫জি সম্প্রসারণ,৬জি ব্যবস্থা, স্পেকট্রাম পরিকল্পনা, স্পেকট্রাম শেয়ারিং, স্যাটেলাইট ও নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ, রেলওয়ে বেতার যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতি, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপিটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আশা করি, এই সভার মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেও আমরা আগ্রহী।
এপিটির ওয়্যারলেস গ্রুপ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেতার যোগাযোগ সংক্রান্ত আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কারিগরি সমন্বয়ের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। এটি সদস্য দেশগুলোর শিল্প খাত, একাডেমিয়া, বেতার যোগাযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ এবং উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, গবেষণা এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ে কাজ করে। এ প্ল্যাটফর্মে রয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। দেশগুলো বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্পেকট্রামের দক্ষ ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করে।
অনুষ্ঠানে এপিটি মহাসচিব মাসানোরি কোন্দো বলেন, এডব্লিউজি-৩৭ সভা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য এই প্রযুক্তিগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান এবং আলোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নসংক্রান্ত কাজেও এডব্লিউজি সম্প্রদায়ের সদস্যদের অবদান রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপের সভাপতি দায়েজুং কিম বলেন, বেতার যোগাযোগ একটি গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একক দেশ বা প্রতিষ্ঠান একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এডব্লিউজির মাধ্যমে আমরা আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে একত্র, পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী এবং বিশ্বব্যাপী ও আঞ্চলিকভাবে প্রাসঙ্গিক সমাধান উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি।