হোম > জাতীয়

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্য চেয়েছে সরকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি বা বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দেশের সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চেয়েছে সরকার। কোন ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন এবং কার সন্তান ওই সনদের সুবিধায় চাকরি পেয়েছেন, সে তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি বা সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন এবং কার সন্তান সেই সনদের সুবিধায় চাকরি পেয়েছেন, সেই তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর থেকে জবাব আসতে শুরু করেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে সঠিক প্রমাণিত হলে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি যারা মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়েও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

গুমের শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তরের উদ্যোগ

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য ইতিমধ্যে জুলাই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের জন্য আলাদা আরেকটি অধিদপ্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যেসব নেতাকর্মী গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ ২০ হাজার টন, টিএসপি সাত লাখ ৫০ হাজার টন, ডিএপি ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টন ও এমওপি ৯ লাখ ৫০ হাজার টনের চাহিদা রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে এবং নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার বিতরণ কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে নিবিড় মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

বিএনপির এমপি সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তৃষি খাতকে অধিক উৎপাদনশীল জলবায়ু-সহিষ্ণু ও টেকসই করতে স্মার্ট ফার্মিং, ড্রোন, আইওটি এবং পরমাণু মিউটেশন ব্রিডিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো হচ্ছে। এর মধ্যে বিনা মিউটেশন ব্রিডিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ধান, তেলবীজ, ডাল, সবজির ও মসলাসহ ২২টি ফসলের ১৩৯টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। ব্রি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১২৭টি ধানের জাত উদ্ভাবন করে ধান উৎপাদন চার গুণ বাড়িয়েছে।

জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট ৫৩টি জাত, ২৭৪টি প্রযুক্তি ও খরচ সাশ্রয়ী রিয়েল কাট প্ল্যান্টার নামে কৃষিযন্ত্র অবমুক্ত করেছে।