হোম > জাতীয়

বাংলাদেশে ব্রিটিশ সহায়তা কমেছে ৫০ শতাংশের বেশি, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জলবায়ু এনজিও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সুন্দরবনে নৌকা ও জাল ঠিক করছেন দুই জেলে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্য বৈদেশিক সহায়তা বাজেট কমানোর ফলে বাংলাদেশে একটি জলবায়ু প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সুন্দরবন এলাকায় প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন পরিচালিত এ প্রকল্পটি ২০২৮ পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও এখন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই শেষ হবে। এতে বছরের শেষ নাগাদ সহায়তা পাওয়ার কথা থাকা বহু মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।

যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস তথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এফসিডিও) বৈদেশিক সহায়তা বাজেট কমানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের সহায়তা বাজেট মোট জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে। জুলাইয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সহায়তা কর্মসূচির পরিমাণ ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ সালে ৬ কোটি ৬৭ লাখ পাউন্ড থেকে কমে ৩ কোটি ১০ লাখ পাউন্ডে নামবে। অর্থাৎ, প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি সহায়তা কমছে।

ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশে একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ পরিচালনা করছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, জলচাষের উপকরণ ও প্রযুক্তি এবং অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম আবহাওয়া তথ্যব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েক দশ হাজার মানুষের জীবনমান বদলে দেওয়া। বিশ্বের বৃহত্তম জোয়ারভাটা-নির্ভর ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে ২০২৩ সালে প্রকল্পটি শুরু হয়। এর বড় অংশ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা। শুরুতে প্রকল্পটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলার কথা ছিল।

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক প্রধান তামান্না রহমান জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিলে সংস্থাটিকে জানানো হয়, চলতি বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে হবে। পরে সংস্থাটির জোরালো তদবিরের পর সময়সীমা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তামান্না রহমানের ভাষ্য, ২০২৬ সালের মধ্যে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের ২২ লাখ পাউন্ড পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তারা ‘এর চেয়ে অনেক কম’ অর্থ পেয়েছে। এ বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটির ৫৭ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ৩৭ হাজারে গিয়ে ঠেকবে।

তামান্না রহমান বলেন, ‘এই আকস্মিক কাটছাঁট সম্প্রদায়ের মধ্যে আমাদের সুনামকে হুমকিতে ফেলেছে, যা আমরা গত আড়াই বছরে খুব যত্ন করে গড়ে তুলেছি। আমরা যে হস্তক্ষেপগুলো করেছি, তার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কার্যকরভাবে প্রকল্প গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার সক্ষমতাও সীমিত হয়েছে।’

সুন্দরবনে কাজ করা ব্রিটিশ জলবায়ু এনজিও সরকারি তহবিলের অভাবে আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ছবি: এএফপি

তামান্না রহমানের মতে, লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু সংকটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে যতটা সম্ভব সহায়তা দরকার। কিন্তু আগাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সহায়তাও ব্যাহত হচ্ছে। তামান্না রহমান বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা আরও তীব্র ঝড় ও ঘূর্ণিঝড় দেখছি, সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ছে, মাটিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। এ ধরনের অর্থায়নের বিপুল চাহিদা আছে, অথচ বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচিগত হস্তক্ষেপ করার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।’

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক কমিটির চেয়ার এবং লেবার পার্টির সংসদ সদস্য সারা চ্যাম্পিয়ন বলেন, ‘এ ধরনের প্রকল্প যদি অল্প নোটিশে দুই বছর আগেই বন্ধ করা হয়, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় স্বল্প-আয়ের দেশগুলোকে সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।’ সারা চ্যাম্পিয়ন আরও বলেন, ‘এর পাশাপাশি এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যের করদাতার অর্থের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হতে পারে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে যুক্তরাজ্যের সুনামও ক্ষুণ্ন করতে পারে।’

গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর মিলনস্থল গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত সুন্দরবনের আয়তন ১০ হাজার ২৭৭ বর্গকিলোমিটার। এখানে ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, প্রায় ৩০০ প্রজাতির পাখি এবং বিপন্ন বাঘ ও নদী ডলফিনের আবাস রয়েছে। প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের সহায়তা পাওয়া জনগোষ্ঠী এই অনন্য প্রতিবেশগত এলাকার কিনারায় বসবাস করে। তাদের জীবিকা ঐতিহ্যগতভাবে মাছ, জ্বালানিকাঠ ও মধুর মতো বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। অনেকেই এখন কৃষিকাজও করেন, তবে ব্যাপক নিরক্ষরতা এবং দেশের মূল অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্নতা তাদের দেশের সবচেয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ফেলেছে।

২০০৯ সালে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় আইলার প্রভাবও এখনো বহু মানুষ বহন করছে। সে সময় সুন্দরবনে আঘাত হেনে এই ঘূর্ণিঝড়ে আনুমানিক ১ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্থানীয় অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি বহু এলাকার ভূদৃশ্যই পাল্টে যায়। সুন্দরবনে প্রতিবছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৩ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। দ্রুত সমুদ্রপৃষ্ঠ উচ্চতা বৃদ্ধিতে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং একসময়ের উর্বর জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বীণা মণ্ডল জানান, তাঁর গ্রাম কালাবগিতে একসময় প্রশস্ত রাস্তা, উৎপাদনশীল খামার এবং ফলগাছ ছিল। আইলার পর রাস্তা ও বাঁধ ভেঙে যায়, আর এখন পরিবারের আয়ের একমাত্র কার্যকর উৎস মাছ ধরা। বৃষ্টি সংরক্ষণের বাইরে মিঠাপানি এখন দুর্লভ। বদ্বীপে মাছের পরিমাণ ক্রমেই কমে যাওয়ায় পরিবারের আয়ও সংকুচিত হচ্ছে। অনেক সময় পরিবারটিকে দিনে মাত্র একবার রান্না করতে হয়, আর স্বাস্থ্যসেবা তাদের নাগালের বাইরে।

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের দেওয়া একটি ছোট সৌর প্যানেল তার জীবিকায় বড় সহায়তা দিয়েছে। বীণা মণ্ডল বলেন, ‘অন্ধকারের পরও আমি কাজ চালিয়ে যেতে পারি, এতে আমার আয় বেড়েছে। প্রকল্প শুরুর আগে মাছ ধরা থেকে মাসে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা আয় হতো, কিন্তু এ বছর আমরা প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করছি।’

গত আড়াই বছরে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের সহায়তা পাওয়া আরেক গ্রামবাসী বাশন্তী মণ্ডল সৌরশক্তিচালিত ধান ভাঙার একটি নতুন যন্ত্র পেয়েছেন। তার ভাষ্য, আগে তিনি প্রতিদিন স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে কাজের খোঁজে খামার থেকে খামারে যেতেন। এখন তিনি বাড়ি থেকেই বেশি আয় করতে পারছেন এবং সন্তানদের দেখভালের জন্যও বেশি সময় পাচ্ছেন।

সংস্থাটির সহায়তাকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রকল্প আগেভাগে বন্ধের ঘোষণা এলে কিছু কমিউনিটি সদস্য কেঁদে ফেলেন। আবার অনেকে বিভ্রান্ত হন, কারণ উদ্যোগগুলো ফল দিতে শুরু করার সময়েই কেন সহায়তা বন্ধ হচ্ছে, তা তারা বুঝতে পারছিলেন না। আগাম সমাপ্তির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪০ জন উদ্যোক্তাকে সহায়তার একটি কর্মসূচি। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনই তাদের ছেড়ে দিলে তারা আবার ‘শূন্যে’ ফিরে যাবে, কারণ তাদের বাজার সম্পর্কে ‘ন্যূনতম ধারণা’ই শুধু দেওয়া হয়েছে বলে জানান তামান্না রহমান।

তামান্না রহমান বলেন, ‘প্রকল্পটি ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত চলবে—এটা যখন খুবই স্পষ্ট ছিল, তখন মাত্র দুই থেকে তিন মাসের নোটিশে সব গুটিয়ে নেওয়া খুব কঠিন হয়েছে। প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের সবসময়ই একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনা থাকে, যেখানে কমিউনিটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং উদ্যোগগুলো স্থানীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এবার আমরা তা পুরোপুরি করতে পারিনি।’

তামান্না রহমানের ভাষ্য, ১৭ কোটি মানুষের দেশে বিদেশি সরকারের অনুদান দিয়ে সবার দারিদ্র্য দূর হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। এ কারণে যুক্তরাজ্যের মতো দাতা দেশগুলো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নতুন ধরনের অংশীদারত্বের মাধ্যমে মূলধন আনতে চাইছে, যা কিছুটা বোধগম্য। তবে তামান্না বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কথা বললে, এখানে কীভাবে বেসরকারি মূলধন আসবে, তা বোঝা কঠিন। মানুষের উল্লেখযোগ্য আর্থিক আয় নেই, আর ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার কারণে যাতায়াত ও অবকাঠামো এখনো কার্যত অনুপস্থিত।’

অন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে। গত বছর মার্সি কর্পস সতর্ক করে বলেছিল, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোজন অর্থায়নের চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ এখন পর্যন্ত বেসরকারি খাত থেকে এসেছে। বন্যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো উদ্যোগকে সাধারণত জনস্বার্থমূলক অবকাঠামো হিসেবে দেখা হয়, যা নির্মাণে সরকারি অর্থের প্রয়োজন হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্ক বন্ডের প্রধান নির্বাহী রোমিলি গ্রিনহিল বলেন, ‘যুক্তরাজ্য-অর্থায়িত মানবিক ও জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচি বাতিল হওয়া লেবার পার্টির স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন সহায়তা কাটছাঁটের কঠোর বাস্তবতাকে উন্মোচিত করেছে। এতে বিশ্বজুড়ে সংঘাত, দারিদ্র্য ও জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব ভোগ করা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি জীবনরেখা হারিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নতুন নেতৃত্বের সামনে গতিপথ বদলানোর এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়নে দেশের ‘বিধ্বস্ত সুনাম’ পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে।

রোমিলি গ্রিনহিল বলেন, ‘আমরা নতুন প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই, যুক্তরাজ্যের সহায়তা বাজেটে আর কোনো কাটছাঁট হবে না—এ কথা স্পষ্টভাবে জানাতে, মোট জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে সহায়তা ফিরিয়ে নেওয়ার রূপরেখা দিতে এবং উচ্চমানের আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সুরক্ষিত করতে।’

তামান্না রহমানের মতে, এফসিডিওর নতুন উন্নয়ন কৌশল থেকে এমন ইঙ্গিত মিলছে যে, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের মতো সংস্থাকে অর্থ দেওয়ার বদলে উন্নয়নশীল দেশের সরকারগুলোকেই সরাসরি বেশি সহায়তা দেওয়ার দিকে ঝোঁক রয়েছে। তবে এ নিয়ে তার উদ্বেগ আছে। তামান্না বলেন, ‘কারণ দুর্গম জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে সুন্দরবনের বনাঞ্চলে বসবাসকারীদের—কাছে পৌঁছানোর মতো জনবল, সক্ষমতা ও দক্ষতা সরকারের ঐতিহ্যগতভাবে ছিল না।’

এফসিডিওর অর্থায়ন ঘাটতি পূরণে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বিভিন্ন ফাউন্ডেশন থেকে অনুদান আনার চেষ্টা করেছে। তবে প্রকল্প বন্ধের স্বল্প নোটিশ সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তামান্না রহমান বলেন, ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন হিসেবে আমরা এফসিডিও সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলতে চাই না, এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাজুড়ে তাদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যেসব সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার চেষ্টা করছি, তাদের কাছে পৌঁছাতে টেকসই, দীর্ঘমেয়াদি অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন এখনও প্রয়োজন।’

প্রতিবেদনে উত্থাপিত উদ্বেগের জবাবে এফসিডিওর এক মুখপাত্র বলেন, ‘জলবায়ু একটি জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি, এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে তার আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব এফসিডিওতে নিয়ে আসবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুদানভিত্তিক সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় উচ্চমাত্রার ব্যয় থেকে সরে আসছি, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ও প্রচেষ্টা উচ্চই থাকবে। আমাদের দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি সরকারগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বে ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অর্থায়ন টেনে আনা এবং সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকে গুরুত্ব দেবে।’

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট