সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া দুর্নীতির একাধিক মামলার আসামি ও সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নথি পাঠানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এনসিবি বাংলাদেশের দুই প্রতিনিধি আজ দুদক কার্যালয়ে যান। সেখানে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আদালতের আদেশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে আলোচনা হয়।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাগুলোর তথ্য-উপাত্ত, আদালতের আদেশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি এনসিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হবে। বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার আওতায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
গত বছরের মার্চে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য প্রকাশ্যে এলে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়। এসব মামলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা বিপুল জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার, ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।