গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘দেশের রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ধারাবাহিক উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ জনগণের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে না।’
আজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিগত সময়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে (বিআরডিবি) কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিআরডিবিকে একটি আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে না বলতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকার গ্রামীণ উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়ন করছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নেতৃত্বে বিআরডিবির হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধার করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।’
আলোচনা সভার শুরুতে দিবসটি উপলক্ষে প্রকাশিত একটি বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেকের স্বাগত বক্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সফল উদ্যোক্তারা তাঁদের জীবনের সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও সরকারের সহায়তা নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প উপস্থিত সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সভায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সমবায়ী ও সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর তাঁরা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন এবং একটি বর্ণাঢ্য র্যালি মিলনায়তন প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।