হোম > জাতীয়

দ্বিতীয় যমুনা ও পদ্মা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় চুক্তি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে বুধবার ‘কনসালটেন্সি সার্ভিসেস ফর ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর কনস্ট্রাকশন অব ২য় যমুনা অ্যান্ড ২য় পদ্মা ব্রিজ’ শীর্ষক এ চুক্তি সই হয়। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় যমুনা ও পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। সমীক্ষার জন্য ১২ মাস সময় নির্ধারণ করা হলেও তা আট থেকে নয় মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে ‘কনসালটেন্সি সার্ভিসেস ফর ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর কনস্ট্রাকশন অব সেকেন্ড যমুনা অ্যান্ড পদ্মা ব্রিজ’ শীর্ষক এ চুক্তি সই হয়।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতুর জন্য বর্তমান যমুনা সেতুর আশপাশে একাধিক রুট বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বালাসী ঘাট এলাকাও রয়েছে। আর দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথের এলাকা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত স্থান সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পর নির্ধারণ করা হবে।

চুক্তিতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সার্ম অ্যাসোসিয়েট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অথরাইজড সিগনেটরি প্রকৌশলী মিয়া মোহাম্মদ কাইয়ুম স্বাক্ষর করেন।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় যমুনা ও পদ্মা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা ও পদ্মা সেতুর জন্য সম্ভাব্য স্থান ও অ্যালাইনমেন্ট চিহ্নিত করা হবে। একই সঙ্গে সেতুর কারিগরি ও কাঠামোগত নকশার বিকল্প, নির্মাণের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব পর্যালোচনা করা হবে। এসব বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সেতু নির্মাণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বিকল্পের সুপারিশ করবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।

সমীক্ষার কাজে নেপালের এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট (ইআরএমসি), সুইডেনের সুইডিশ ন্যাশনাল রোড কনসালটিং এবি (সুইরোড), দক্ষিণ কোরিয়ার দাসান কনসালট্যান্টস কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশের দেশ উপদেশ লিমিটেড ও সার্ম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করবে। সাব-কনসালট্যান্ট হিসেবে থাকবে বাংলাদেশের টিলার।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে দ্বিতীয় যমুনা ও পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সমীক্ষার মাধ্যমে সঠিক স্থান নির্ধারণ করে সেতু নির্মাণ করা হলে দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। নতুন দুটি সেতু নির্মাণ করা গেলে বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।