গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগে কারা অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ, কারা-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সীমানাপ্রাচীর টপকে সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি রিম্পা (২১) পালিয়ে যান। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে এবং বিষয়টি তদন্তে নামে কারা অধিদপ্তর।
তদন্তে জেলার শিরিন আক্তারের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে কারা অধিদপ্তর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুযায়ী খোরাকি ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।
এদিকে, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া কয়েদি রিম্পাকে ঘটনার তিন দিন পর রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র্যাব-২। গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে রিম্পার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কারা অধিদপ্তর তাৎক্ষণিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে নিরাপত্তাব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়গুলো উঠে আসে।
এর ধারাবাহিকতায় ঘটনার পরপরই কারাগারের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তদন্তের অগ্রগতিতে জেলার শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কারাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।