অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রমাণবিহীন অপপ্রচার চলছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ালে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আজ সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন হুঁশিয়ারি জানায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
গত মে ও জুন মাসে গ্রাহকেরা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল চুকানোর অভিযোগ করে আসছেন। নিয়মিত ৪ হাজার টাকা বিল দিতেন এমন গ্রাহকের বাসায় জুলাই মাসে জুন মাসের ব্যবহারের ওপর যে বিল গেছে সেখানে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়েছে।
পোস্টপেইড গ্রাহকদের আশঙ্কা—মিটার রিডারদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে জুন মাসে সমন্বয় করতে গিয়ে তাদের বেশি বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। তবে সরকারি বিতরণ কোম্পানিগুলোর ভাষ্য হচ্ছে জুন মাসে তাপমাত্রা বেশি থাকা, গ্রাহকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া, স্ল্যাব পরিবর্তন ও খুচরা পর্যায়ে ১৭ শতাংশ বাড়তি মূল্য কার্যকর হওয়ার কারণে বিলের পরিমাণ বেশি দেখাচ্ছে।
বাড়তি বিলের অভিযোগ নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কিছু হেল্পলাইন চালু করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের বিল বেশি এসেছে এমন কোনো ঘটনা প্রমাণ হয়নি অথবা প্রমাণ করা যায়নি। তবে ইতিমধ্যেই বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ ধরে দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে হচ্ছে তীব্র সমালোচনা।
এমন প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের দাপ্তরিক বক্তব্যে বলা হয়, ‘সম্প্রতি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত যে সকল অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে তা বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিতরণ সংস্থাসমূহ কর্তৃক সমাধান করা হয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে কোনো প্রকার অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।’
এতে আরও বলা হয়, ‘তবে কোনো গ্রাহকের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বিষয়ক কোনো অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করলে সে বিষয়ে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’