মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের পরও আইনসভায় বিল আসতে দেরি হওয়ায় মর্মাহত ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, ‘মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের পরে যত দ্রুত সম্ভব বিল আইনসভায় পাঠানো উচিত। যেন, সব সদস্য আইনটা দেখে আসতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা ব্যত্যয় দেখছি। আমরা খুবই মর্মাহত।’
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল উত্থাপনের পর আলোচনার একপর্যায়ে এ কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল উত্থাপনের পর দুই কার্যদিবসের মধ্যে পরীক্ষা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
পরে তা নিয়ে কথা বলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরে দেখছি, সময় বেঁধে (সংসদীয় কমিটি) দেওয়া হচ্ছে। জটিল জাতীয় মানবাধিকার আইনের প্রতিবেদন দেওয়ার জন্যও দুই কার্যদিবস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কমিটিগুলোর অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলার কিংবা প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কথা বলার এখতিয়ার কমিটির রয়েছে। সময় বেঁধে দিয়ে সংসদীয় কমিটিকে এসব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, হাত-পা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো টাইম পাসিং না, ৩০ কার্যদিবস গেলে এগুলো ল্যাপস হবে, এমন না।’ তিনি সংসদীয় কমিটিকে সময় বেঁধে দেওয়া সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৮-৯ (সেপ্টেম্বর) তারিখের মধ্যে আইনগুলো পাস করতে হবে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হলে অন্য কথা। মন্ত্রী বলেন, বিলটি সব সদস্যের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এনেছেন অনেকেই। এটা আইনসভা, কিন্তু আমাদের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করতে হচ্ছে বারবার, ৭৭ বিধি ব্যবহার করতে হচ্ছে। আপনি বলেছেন, সব সদস্যের কাছে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু সবাই পায়নি।’
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছিল। বিলটা অনেক আগেই সংসদে আসতে পারত, মাননীয় সংসদ সদস্যরা দেখতে পারতেন, সেটাও আসেনি। এই যে গ্যাপটা হচ্ছে, মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের পরে যত দ্রুত সম্ভব আইনসভায় পাঠানো উচিত, যেন সব সদস্য আইনটা দেখে আসতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা ব্যত্যয় দেখছি। আমরা খুবই মর্মাহত। পরে আপনারা নির্বাহী বিভাগ সতর্ক থাকবেন, যেন যথাসময়ে আইনটা সংসদে আসে, ৩৪৯ জন মাননীয় সংসদ সদস্যের হাতে পৌঁছায়।’
কায়সার কামাল বলেন, ‘সংসদীয় কমিটিতে পরীক্ষার জন্য পাঠান। তখন আপনারা বলেন, এটা তো সংসদীয় কমিটিতে পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে। কিন্তু পরীক্ষার জন্য তো ৩৪৯ জনের কাছে যাচ্ছে না, ১০ জন বা ১৫ জন পাচ্ছেন। আমি অনুরোধ করব, বিলগুলো যাতে যথাসময়ে আইনসভায় আসে, কারণ, এটা আইনসভা।’