তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো-সংকটের কারণে এক মাস ধরে চলমান গ্যাস-সংকট আরও তিন দিন অতিবাহিত করবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। এদিকে গ্যাস-সংকটের কারণে একদিকে যেমন শিল্পকারখানায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার পরিচালন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শোয়েব আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘২৩ আগস্ট একটি এলএনজি কার্গো আসতে পারে। সেদিন থেকে দুটি এফএসআরইউ পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে বলে আশা করি। এই সময়ের মধ্যে দেশীয় উৎপাদনও বাড়ানো যাচ্ছে না।’
গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে দেশে গ্যাস-সংকট শুরু হয়। অগ্নিকাণ্ডের আগে দৈনিক ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও বর্তমানে তা কমে দৈনিক ২ হাজার ১৯৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
এদিকে গ্যাসের অভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর এলাকায় অধিকাংশ কারখানা গত এক সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে বলে গতকাল বুধবার সিপিডি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিল্পমালিকেরা অভিযোগ করেছেন।
আজ বেলা ২টার তথ্য অনুযায়ী, এফএসআরইউ থেকে ৫৭১ মিলিয়ন ঘনফুট ও দেশীয় কূপ থেকে ১ হাজার ৬২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছিল।
পেট্রোবাংলার দৈনিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এলএনজির পাশাপাশি দেশীয় কূপ থেকেও গ্যাসের সরবরাহ দিন দিন কমছে। গত ১০ জুন দেশীয় কূপ থেকে ১ হাজার ৬৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছিল। আর গতকাল দেশীয় কূপ থেকে আসছিল ১ হাজার ৬৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট। মাঝে জুলাইয়ের শুরুর দিকে দেশীয় কূপ থেকে গ্যাসের সরবরাহ ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটেও নেমেছিল।
দেশীয় কূপ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বহুজাতিক কোম্পানির শেভরন ও তাল্লোর নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকেই উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে। গত ১০ জুন এই দুই কোম্পানি থেকে ৯৪৮ মিলিয়ন সরবরাহ থাকলেও গতকাল তা ছিল ৯০৯ মিলিয়ন ঘনফুট।
গ্যাসের সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার অতিক্রম করলে লোডশেডিং দুই হাজার মেগাওয়াটের ঘর অতিক্রম করছে। আবার চাহিদা ১৫ হাজারের নিচে নেমে এলে লোডশেডিংও এক হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসছে।