হোম > জাতীয়

এবার সংসদীয় কমিটি থেকেও বাদ পড়লেন গাজী নজরুল ইসলাম

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটি থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের অনুরোধে তাঁর পরিবর্তে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও বিশেষ কমিটিতে নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কমিটি দুটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের আগে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের একজন সদস্যের পরিবর্তে বিরোধীদলীয় নেতা আরেকজনের নাম প্রস্তাব করেছেন, সে মর্মে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কমিটি আবার পুনর্গঠন করা হয়েছে।’

চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে, তাঁর পক্ষে আমি, সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হোক।’ পরে তিনি কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব করেন। এতে গাজী নজরুল ইসলামের পরিবর্তে গাইবান্ধার জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল ওয়ারেছের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব করেন। পরে তা সংসদের কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে গত ১৪ জুলাই সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে সভাপতি করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে গাজী নজরুল ইসলাম, রোকেয়া বেগম ও আবদুল হান্নান মাসউদ ছিলেন।

আজ পুনর্গঠন হওয়া কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য হিসেবে আছেন আবদুল ওয়ারেছ, রায়হান সিরাজী ও রোকেয়া বেগম।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করার জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন ১২ মার্চ সরকারদলীয় এমপি জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি করে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য হিসেবে ছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম। এ কমিটি থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। তাঁর বদলে আজ জামায়াতের আরেক সদস্য নাজিবুর রহমানের নাম প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। বহিষ্কারের বিষয়টি অবহিত করে ২৩ জুলাই স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর চিঠি দেয় দলটি। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও সিইসির প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এমন অবস্থায় ১৮ আগস্ট হওয়া মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।