কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও দুজন সাগরে তলিয়ে গেছেন। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হিমছড়ি মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ও নিখোঁজ একজনের পরিচয় মিলেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত পর্যটকেরা হলেন ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে আসা আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪) ও সাইবুল হক জিসান (২৩)। উদ্ধার হওয়া অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩)। তিনিও উত্তরার বাসিন্দা। অপর নিখোঁজ ব্যক্তি পর্যটকদের উদ্ধারে পানিতে নেমেছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত উদ্ধার হওয়া একজন ও নিখোঁজ একজনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার উত্তরা থেকে সাত বন্ধু বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা কক্সবাজারে পৌঁছান। তাঁরা হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন একটি রিসোর্টে ওঠেন।
মাহবুব আলম বলেন, খাওয়াদাওয়া শেষে বিকেল ৪টার দিকে সাত বন্ধু সমুদ্রে গোসলে নামেন। তাঁদের কেউই সাঁতার জানতেন না। এ সময় ওই এলাকায় আরও তিন-চারজন গোসলে ছিলেন। এ সময় দুজনকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে যান সাত বন্ধু। একপর্যায়ে তাঁরাও সমুদ্রের স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম ও সাইবুল হক জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড় নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সৈকতে গোসলে নেমে বিপদে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে কক্সবাজার শহরের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলীর তিন কিলোমিটার সৈকত ছাড়া আর কোথাও লাইফগার্ড সেবা নেই।