হোম > জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারকে দ্রুত উপাত্ত যাচাই ও ভুল পরিসংখ্যান সংশোধনের আহ্বান ঢাকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অনেক উপাত্ত ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীন নিবন্ধিত তথ্যই তাদের সঠিক সংখ্যা প্রতিফলিত করে বলে স্পষ্টত জানানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী উপাত্ত সংশোধনের তাগাদা দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের একটি কূটনৈতিক বৈঠকে এ বার্তা দেওয়া হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি, মিয়ানমার) মো. তৌফিকুর রহমান বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিউ সো মোয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত শনিবার (১৫ আগস্ট) প্রকাশিত প্রেস বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে ডিজি তৌফিকুর রহমান বলেন, ওই বিবৃতিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনসংখ্যার সংখ্যাসহ অনেক তথ্য ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীনে নিবন্ধিত তথ্যই রোহিঙ্গাদের সঠিক ও প্রকৃত সংখ্যা নির্দেশ করে।

ডিজি দ্বিপক্ষীয় দলিলপত্রের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ-প্রক্রিয়া দ্রুততর করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে, রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু ও ২০১৭ সালের পর রাখাইন ছাড়তে বাধ্য হওয়া নতুন আগত ব্যক্তিদের এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ তাদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের পূর্ববর্তী সংখ্যার বাইরের রোহিঙ্গাদের তথ্যও উপযুক্ত সময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হবে। যাচাইকরণ কার্যক্রমে যেন এই নতুন তথ্যগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে আরও উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নন; মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্প্রতি পর্যন্ত তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় স্বীকৃত ছিল।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিউ সো মোয়ে বাংলাদেশের সব উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ তাঁর দেশের রাজধানী নেপিডোতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, যাচাই করা রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য যাচাইকরণ-প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তাঁর সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ডিজি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী ও টেকসই সমাধান নিহিত রয়েছে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের মধ্যে।