ঢাকা মহানগরী ও আশপাশ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প’ বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে তা অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই পরিকল্পনা ও কমিটমেন্ট অত্যন্ত জরুরি।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকাকে বাইপাস করে হেমায়েতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জকে সংযুক্ত করবে, যার মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যানবাহনের গতি বাড়বে এবং ঢাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। প্রকল্পটির হালনাগাদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে অতীতে অনেক প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে। সময়মতো জমি অধিগ্রহণ ও কাজ সম্পন্ন না হলে প্রকল্পের সুফল কমে যায়। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘৫৩ বছরের অবকাঠামো নির্মাণের যে রাষ্ট্রীয় প্র্যাকটিস, সেটি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। সেলফ কারেকশন এবং লক্ষ্য ঠিক না করে আমরা আগের সরকারের মতো ঢালাওভাবে মেগা প্রজেক্ট নিতে চাই না। আমরা এমনভাবে অর্থ ব্যয় করতে চাই, যাতে অর্থের অপচয় হবে না এবং জনগণ সুফল পাবে।’
মন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নিরুৎসাহিত করে, তবে যেটার প্রয়োজন আছে সেটি মাঝারি, ছোট, বড় যা হোক তা করা হবে। এই প্রকল্প অনেক প্রয়োজনীয় হলেও এর বাস্তবায়ন ত্রুটিযুক্ত, যেভাবে ত্রুটিমুক্তভাবে করা যায়, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
কর্মশালায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়েটি প্রায় ৩৮.৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এবং এটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। পথে এটি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী অতিক্রম করবে এবং বিভিন্ন মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ওপর দিয়ে আন্তজেলা যানবাহনের চাপ কমবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।
প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্মাণ ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন ব্যয় ১৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা ইতিবাচক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।