হোম > জাতীয়

মন্ত্রিসভায় রদবদল: উৎকণ্ঠা কেটে গিয়ে স্বস্তি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

মন্ত্রিসভা থেকে কয়েকজনের বাদ পড়ার গুঞ্জন থাকলেও গত শুক্রবারের পরিবর্তনে তা না হওয়ায় তাঁদের উৎকণ্ঠা কেটে গিয়ে স্বস্তি ফিরেছে। কর্মদক্ষতা, দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডসহ কিছু কারণে কয়েকজনের বাদ পড়ার গুঞ্জন চলছিল। তবে শুক্রবারের রদবদলে নতুন তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন, বাদ পড়েছেন একজন।

সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভার এই রদবদলের মাধ্যমে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রতি বার্তা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তাঁদের প্রত্যেকের কাজ ও কর্মদক্ষতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে প্রত্যাশিত উন্নতি না হলে পরবর্তী মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সরকার, বিএনপির নেতাদের মধ্যে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েক সপ্তাহ ধরে গুঞ্জন ছিল, সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। গুঞ্জনের কেন্দ্রে ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। তবে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার রদবদলে এসব দপ্তরে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এবারের রদবদলে সবচেয়ে বড় চমক জহির উদ্দিন স্বপনের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে বাদ পড়া। তবে বাদ পড়ার গুঞ্জন থাকা মন্ত্রীদের মধ্যে তাঁর নাম ছিল না; বরং দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি প্রচারে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁর অবস্থান নিয়ে ইতিবাচক ধারণা ছিল অনেকের। ফলে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করায় এ নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা চলছে।

সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, এবার বড় ধরনের রদবদল না হলেও এটি বিতর্কিত, নিষ্ক্রিয়, অসফল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য এটি সতর্কবার্তা। ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের খতিয়ান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের হাতে রয়েছে। তাই পরবর্তী পুনর্গঠনে এমন মন্ত্রীদের বহাল থাকা সহজ হবে না।

গ্যাস-সংকট ও লোডশেডিং নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ কারণে এই মন্ত্রণালয় নিয়ে গুঞ্জনও ছিল। সরকারের সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বিবেচনায় মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্বকেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এই সময়ে বড় পরিবর্তন করলে সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক ও নীতিগত সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

সূত্র বলেছে, কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দাপ্তরিক কাজে অনিয়মিত থাকা এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পদ ছাড়ার আগ্রহ জানানোর বিষয়টিও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নজরে এসেছে। বিশেষ করে কারও কারও বিষয়ে দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ শোনা গেছে। তবে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সংশ্লিষ্টদের আরও একবার নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দিতে তাঁদের মন্ত্রিসভায় বহাল রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার রদবদলে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন দলের সাবেক মহাসচিব ও বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সূত্র বলেছে, আবদুল মঈন খানকে নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা আছে সরকার ও দলে। নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আন্দালিভ রহমান পার্থকে ঘিরেও ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে। অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি এবং তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তিনি ওই মন্ত্রণালয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে সরকারের ভেতরে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও এসেছে ব্যতিক্রমী বিন্যাস। একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি নতুন করে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ে একই পদমর্যাদার দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।

মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে গতকাল শনিবার নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের কল্যাণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার পরিচালনায় কিছু পরিবর্তন এনেছেন। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আমরা সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।’