হোম > জাতীয়

চড়া মূল্যে এলএনজি, নাকি সহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং—কোনটা ভালো, ভাবতে বললেন উপদেষ্টা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ডা. জাহেদ উর রহমান। ফাইল ছবি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, চড়া মূল্যের এলএনজি কিনে খরচ করা হবে নাকি কিছুটা সহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সহ্য করা ভালো হবে, তা সবাইকে ভেবে দেখতে হবে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে এখন গ্যাস-সংকট চলছে। গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়েছে অনেক শিল্পকারখানা। আবার গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে, দেশব্যাপী এক হাজার থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, এলএনজি কার্গোর সরবরাহ আসতে একটু সমস্যা হচ্ছে। অচিরেই সেটা ঠিক হয়ে যাবে। শিল্পোদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন না দিয়ে ১২ মাসে পরিশোধের একটা সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভোলার গ্যাসকে কাজে লাগাতে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১ হাজার ৭৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থলভাগের গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ রেখে কিছু অলিগার্কের হাতে এই ব্যবসা তুলে দেওয়ার জন্য সরকার জনগণের ভোগান্তির প্রতি সমব্যথী, কিন্তু একই সঙ্গে এটা বহু বছরের পুঞ্জীভূত অনিয়মের কারণেও হয়েছে। দিনের শেষে আমরা অনেক বেশি গ্যাস এনে মারাত্মক রকম সাবসিডি দেব নাকি কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেব—আমাদের সেই সিদ্ধান্তে আসতে হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেই এলএনজি প্রতি ইউনিট ১২ ডলারে পাওয়া যেত, সেটা এখন ২৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এটা ৩০ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অটোরিকশা নীতিমালা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এ নীতিমালায় এসব রিকশা কোথায় ও কতটুকু চলতে পারবে, যানবাহনের মান ও কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হবে। সরকার খুব দ্রুত একটা নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। কোন এলাকায় ও এসব যান কতটুকু চলাচল করতে পারবে, যানবাহনের মান কেমন হবে—এসব বিষয় নীতিমালায় নিশ্চিত করা হবে।

সম্প্রতি দেশের একাধিক স্থানে কনসার্ট ও নৌকাবাইচ আয়োজনে একটি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাধা আসা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় এ বিষয়ে ‘ড্রামাটিক্যালি’ উন্নতি হয়েছে। অবশ্য দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না, সে কথা অস্বীকার করা যায় না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, কনসার্ট বাতিল মানেই সরকার সহযোগিতা করল না, তা নয়। হয়তো নিরাপত্তা ইস্যু ছিল। বাংলাদেশে অনেক কনসার্ট হচ্ছে। বড় বড় কনসার্ট হচ্ছে।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের মানসিকতা নেই যে—কালচারাল কোনো ব্যাপারে বাধাবিঘ্ন হবে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ ধরনের ঘটনা যত ঘটেছে, তার তুলনায় কিছুই হচ্ছে না এখন। আমি যদি তুলনা করি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশ যে জায়গায় চলে গিয়েছিল, এ সরকারের সময় সিগনিফিকেন্টলি বললে কম বলা হবে, ড্রামাটিক্যালি ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। তবে দু-একটা ঘটনা যে ঘটছে না, তা নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।