হোম > জাতীয়

দেশ স্বাধীন হলেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার ক্ষুণ্ন হয়েছে: রাষ্ট্রদূত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ কথা বলেন। আজ বুধবার স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে দুই দেশের সংসদীয় কূটনীতি, বিনিয়োগ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে আলোচনা হয়।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে শোষণের শিকার হয়েছে। পাকিস্তান আমলে দেশের গণতান্ত্রিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্পিকার বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য বারবার নিজেদের উৎসর্গ করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়ে তারা কখনো বিচ্যুত হয়নি।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়েছে। জার্মানি ও বাংলাদেশ উভয়ই গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ।

এ সময় জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথযাত্রা সুগম করেছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের গণতন্ত্র কার্যকর করতে জার্মান সরকারের সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে জার্মানি-বাংলাদেশ সংসদীয় কমিটি গঠন, মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাসকূপ অনুসন্ধান এবং সার কারখানা স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্পিকার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকার গ্যাস ও তেলসম্পদ অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল বলেও তিনি রাষ্ট্রদূতকে জানান।

অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।