একটি সুন্দর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে মন্তব্য করে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে, বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশে কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছে।’
আজ বুধবার নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা।
সিইসি বলেন, দেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। একজন রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষের আগে পদত্যাগ করেছেন। এখানে কে রাষ্ট্রপতি হবেন, তা সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে। যদি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ না করতেন তাহলে হয়তো মানুষের এত আগ্রহ থাকত না।
তিনি আরও বলেন, ‘শিডিউল অনুযায়ী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট হবে। আমি নির্বাচন পরিচালনা করব।’
আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘ওনার সম্মতি নিয়ে ওনার সঙ্গে আলোচনাক্রমে আমরা কিন্তু শিডিউলটা ঘোষণা করেছি।’
নির্বাচনে সহায়তার জন্য কমিশন থেকে ২০ জনের তালিকা সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সিইসি। সংসদ সচিবালয় ইসিকে সহযোগিতা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনে প্রথমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেবেন, যা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে উল্লেখ করেন সিইসি। ভোট গণনার সময় আবার তা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। গণনা শেষে সবার সামনে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
রাষ্ট্রপতির ভোটকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তা সুচারু রূপে পরিচালনার জন্য ইসি সব প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান নির্বাচনী কর্তা। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতির মধ্যে কোনো ঘাটতি নাই।’
নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেবেন উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ব্যালটে ভোটারের নাম ও কাকে ভোট দেবেন তা উল্লেখ থাকবে।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল বলে জানান সিইসি। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় ব্যবহৃত রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। আমরা তিনটা মনোনয়ন ভ্যালিড মনোনয়ন পেয়েছি। ১১ দলীয় ঐক্যের দুইটাও ভ্যালিড এবং সরকারি দল যে বর্তমান বিএনপি, তার উনাদের মনোনয়নটাও ভ্যালিড। তিনটা মনোনয়ন টোটাল ভ্যালিড পেয়েছি।’
একই প্রার্থীর পক্ষে দুটি বৈধ মনোনয়নপত্র থাকলে একটি গ্রহণ করা হলে অন্যটি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায় উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘তাইলে আমরা একটা বাদ দিয়ে দুটো ভ্যালিড নমিনেশন থাকল এবং যেটার ভোট হবে পার্লামেন্টে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা সংসদের ‘বিভক্তি নম্বর’ অনুযায়ী করা হয়েছে বলে জানান সিইসি। একটি সংসদীয় আসন শূন্য থাকায় বিভক্তি নম্বরের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তনের কথাও তিনি তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের কারণে ওই আসন শূন্য থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। সিইসি বলেন, ‘আমাদের ভোটার সংখ্যা হচ্ছে...৩৪৯।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় নিয়ে প্রশ্নে সিইসি বলেন, এ নির্বাচনে বড় ধরনের অতিরিক্ত খরচ দেখছেন না তিনি। ব্যালট ছাপানো ও কাগজপত্র-স্টেশনারির মতো কিছু খরচ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত ব্যয় তেমন নেই বলে জানান তিনি।
সিইসি বলেন, ‘অনেক পত্রপত্রিকায় তো মনে হচ্ছে যেন আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করতেছি, সেরকম মনে হচ্ছে। কিন্তু আসলে সেরকম কিছু না।’
তবে সংসদ ভবনে বৈঠক আয়োজনের বিদ্যুৎ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য ব্যয় সংসদ সচিবালয়ের বলে উল্লেখ করেন তিনি।