হোম > জাতীয়

গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য অধিদপ্তর হচ্ছে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রতীকী ছবি

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণে নতুন অধিদপ্তর গঠন করতে যাচ্ছে সরকার।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযমের সভাপতিত্বে আজ রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালী সংশোধন করে এই নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্র যেমন স্বীকৃতি দিয়েছে ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করেছে; ঠিক তেমনি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাদের অপরিসীম ত্যাগ রয়েছে, যারা গুম হয়েছেন, নির্মমভাবে খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারে ফিরে আসেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন, রাষ্ট্র তাদের এই ত্যাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি এভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়ে স্বজন হারাতে না হয়, সেটির স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিদপ্তর গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও তাদের জন্য সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন এবং রুলস অব বিজনেস সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলিতে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য সেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, মহিলা ও শিশুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা আন্তমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থিত ছিলেন।