হোম > জাতীয়

তেলের সংকটের জন্য ‘প্যানিকড বায়িং’কে দুষছেন জ্বালানিমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ফাইল ছবি

গত বছরের তুলনায় বেশি জ্বালানি বাজারে সরবরাহ করলেও ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কিত ভোক্তাদের বাড়তি তেল ক্রয় বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যমান গ্যাস ও জ্বালানির মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে আজ সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। বরং আমরা গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করেছি। গত বছর এই সময়ে আমাদের যে পরিমাণ জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছিল, এ বছর আমরা তারচেয়ে বেশি সরবরাহ নিশ্চিত করেছি।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ২০২৫ সালের মার্চ মাসের চাহিদাকে ভিত্তি ধরে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। সরকার সম্ভাব্য চাহিদার চেয়েও বেশি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে, যাতে বাজারে কোনো ধরনের সংকট বা কৃত্রিম চাপ তৈরি না হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রকৃত চাহিদা সেই অনুপাতে বাড়েনি। জনমনের মধ্যে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা বিদ্যমান এবং প্যানিকড বায়িং পরিস্থিতিকে অনর্থকভাবে জটিল করে তুলতে পারে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, গত বছরের মার্চে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার টন এবং অকটেন-পেট্রলের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টনের মধ্যে। অথচ চলতি বছরের ১ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত অকটেন বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অর্থাৎ গড়ে দিনে প্রায় ১ হাজার ২৫৮ টন। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, বাজারে জ্বালানিপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩ শতাংশ ডিজেল, ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ অকটেন এবং ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ পেট্রল। অথচ পেট্রল-অকটেনের জন্যই ফিলিং স্টেশনগুলোয় দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে, যা সঠিক চিত্র প্রতিফলিত করে না। এখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে মজুতের প্রবণতা থাকায় এ সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ৫৩টি মামলা করা হয়েছে, যাতে ৭৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ডসহ ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানের মাধ্যমে ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ২২ হাজার লিটার অকটেন, ৪৬ হাজার লিটার পেট্রলসহ ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিন দেশে ডিজেলের মজুত ছিল ২ লাখ ৬ হাজার টন। ৩০ মার্চ ডিজেলের মজুত ২ লাখ ১৮ হাজার টন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৪১ দিনে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৮২ হাজার টন। এত বিপুল বিক্রির পরও মজুত বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে সরকার আগাম প্রস্তুতি, ধারাবাহিক আমদানি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে অব্যাহত রেখেছে। তিনি যোগ করেন, সরকার ডিজেলের পাশাপাশি অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানি করেছে। এ ছাড়া দেশীয় উৎস থেকে আরও ৩০ হাজার টন অকটেন পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, মাসে অকটেনের চাহিদা ৩৫ হাজার টন হলেও সরকার যে মজুতের ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে প্রায় ২ মাসের চাহিদা পূরণ করা যাবে। ফলে অকটেনের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং সমস্যাটি মূলত আচরণনির্ভর।

মন্ত্রী ঢাকার তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের উদাহরণ টেনে বলেন, ২০২৫ সালের মার্চে সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন বিক্রি হতো। অথচ ২০২৬ সালের মার্চে প্রতিদিন সেখানে গড় বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৬২০ লিটার। অর্থাৎ, বিক্রি প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, ঢাকার আসাদগেটে অবস্থিত সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস, নিকুঞ্জ ও মিরপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশনের ২০২৫ ও ২০২৬ সালে সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের তুলনামূলক পর্যালোচনায় একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরবরাহ ও প্রস্তুতি পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও মানুষ যদি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্রয় করে কিংবা ড্রাম ও জারে ভরে অবৈধ মজুত শুরু করে, তবে স্বাভাবিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে বাধ্য। সুতরাং, আজকের এই পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা তৈরি করা।’

বাস্তব অবস্থা জাতির সামনে তুলে ধরতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অথচ আমাদের প্রকৃত ব্যয় প্রতি লিটারে ১৯৮ টাকা। একইভাবে অকটেনের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১২০ টাকা, প্রকৃত ব্যয় ১৫০ টাকা ৭২ পয়সা। ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দরের তুলনায় ১-২৯ মার্চ সময়ের ডিজেলের গড় দর ৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অকটেনের বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬ শতাংশ। সরকার জনগণের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি বহন করছে। এই দুটি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মার্চ-জুন প্রান্তিকে মোট ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা এবং অকটেনের ক্ষেত্রে ৬৩৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির জন্য এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।’

আইএলও-তে বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ

সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল গ্রেপ্তার

দেশে ডিজেলের মজুত কত, জানালেন জ্বালানিমন্ত্রী

সনদ বাস্তবায়নে মুলতবি প্রস্তাব এনেছেন স্বতন্ত্র এমপি শেখ মুজিবুর রহমান

করোনাকালে কেনাকাটায় অনিয়ম: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ছয় মামলার সুপারিশ

কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংহতির বার্তা

নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যয় ২৩ লাখ টাকা

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিমানে পারফরম্যান্সভিত্তিক পদোন্নতি, শূন্য পদ দ্রুত পূরণের নির্দেশ

আইজিপির সঙ্গে মাল্টার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ