অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোবাইল হ্যান্ডসেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে চুরি ও ছিনতাই হওয়া হ্যান্ডসেট শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে আইএমইআই নম্বরভিত্তিক নিবন্ধন ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে মোবাইল সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে দুই বছরের শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার করছেন। ফলে সিম ব্যবহারে বয়সসংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকলেও হ্যান্ডসেট ব্যবহারে কার্যকর কোনো বয়সসীমা বা সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। এতে শিশু-কিশোরদের হাতে অবাধে স্মার্টফোন পৌঁছে যাচ্ছে।
সংগঠনটি মনে করে, শিশুদের হাতে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহার তাদের শিক্ষা, মানসিক বিকাশ, সামাজিক আচরণ ও নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিশুদের প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না করে বয়সভিত্তিক ও অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে নির্দিষ্ট বয়সের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ, অভিভাবকের সম্মতি, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ ও কনটেন্ট ফিল্টারিংয়ের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া স্কুল-কলেজে ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ, অনলাইন আসক্তি, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্যতামূলক সচেতনতামূলক শিক্ষা চালুর দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে মোবাইল হ্যান্ডসেট চুরি ও ছিনতাইকেও গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চুরি হওয়া হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় চুরি বা ছিনতাই হওয়া হ্যান্ডসেট দ্রুত শনাক্ত করে নেটওয়ার্ক থেকে নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি অবৈধভাবে কেনাবেচা বন্ধে দোকান ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
সরকার, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি), মোবাইল অপারেটর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে শিশুবান্ধব ও নিরাপদ ডিজিটাল নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।