ঢাকায় ‘নেপাল উৎসব ২০২৬’ অনুষ্ঠিত
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও নেপালের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর বন্ধনে আবদ্ধ। ভৌগোলিক সীমারেখা আলাদা হলেও আমাদের সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আতিথেয়তার চেতনা আমাদের এক অভিন্ন বন্ধনে যুক্ত করেছে।’
আজ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ‘নেপাল উৎসব ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে আরও গভীর করার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতার নানা বাস্তবতার বিপরীতে সংস্কৃতিই হতে পারে শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিক সংযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। বৈচিত্র্য কখনো বিভেদের কারণ নয়; বরং তা সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও ঐক্যের এক অনন্য শক্তি। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজন দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নেপালের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড়-পর্বতময় ভূপ্রকৃতির প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব সময় নেপালের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা, যুববিনিময় ও আঞ্চলিক কানেকটিভিটির ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
ঢাকায় নেপাল দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে উৎসব সফল করতে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের শিল্পী, পারফরমার, শেফ ও আয়োজকদের অভিনন্দন জানান তিনি।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ নেপালের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশিল্প, সংগীত, নৃত্য ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও বিপুলসংখ্যক দর্শক ছিলেন।