হোম > জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকট পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে: সেনাপ্রধান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রোহিঙ্গা সংকট দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘ক্যাপস্টোন কোর্স’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সেনাপ্রধান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। পাশাপাশি মাদক পাচার, চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপরাধও ওই এলাকায় চলছে। সীমান্ত সমস্যা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা ও বিদ্রোহ, জ্বালানিসংকটসহ দেশের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

সেনাপ্রধান বলেন, এসব বিষয়ে ক্যাপস্টোন কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও বিশেষ জ্ঞান বিনিময় করেছেন। এতে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তাঁরা আরও সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দেশের এসব সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সেনাপ্রধান বলেন, এসব সমস্যার সমাধান এক দিনে সম্ভব নয়। বিভিন্ন সময়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এনডিসিতে এনে এ ধরনের কোর্সের মাধ্যমে তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি এনডিসিও তাদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হচ্ছে।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, নীতি ও আইন প্রণয়নে ক্যাপস্টোন কোর্সে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আপনাদের হিকমা, উইজডম ও প্রজ্ঞা আল্লাহ দিয়েছেন। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল। এই প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আপনারা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।’

এনডিসির ক্যাপস্টোন কোর্সে বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৩৭ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, অধ্যাপক, চিকিৎসক, বিচারক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সমন্বয়ে এখানে অভিজ্ঞতার একটি চমৎকার সমাবেশ ঘটেছে। বিভিন্ন পেশা ও প্রতিষ্ঠানের মানুষের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক জ্ঞানও সমৃদ্ধ হয়েছে।

এনডিসির কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এনডিসির এটাই সাফল্য। কমান্ড্যান্ট, সব ফ্যাকাল্টি ও স্টাফকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁরা অত্যন্ত ভালোভাবে এই কোর্স পরিচালনা করেছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোর্স অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি।’

কোর্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, বিভিন্ন পেশা ও অভিজ্ঞতার মানুষের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমন্বয় ও শক্তি তৈরি করতে পারে।

সেনাপ্রধান বলেন, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞতার মানুষ যখন একসঙ্গে যুক্ত হন, তখন একটি ‘সিনার্জি’ তৈরি হয়। এই বন্ধন জাতীয়ভাবে এগিয়ে যেতে ও দেশকে উন্নত করতে সহায়তা করবে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অব্যাহত সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোর্স চলাকালে ফেলোদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং কৌশলগত উপলব্ধি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তাধারার বিকাশ, আন্তবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির অনুষদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।