হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

হ্রদ-পাহাড়ের দেশে রিসোর্ট ভ্রমণ

হিমেল চাকমা, রাঙামাটি 

আসন্ন ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় সব সময় শীর্ষ স্থানে থাকে পাহাড়ি কন্যা রাঙামাটি। কাপ্তাই হ্রদের শান্ত জলরাশি আর পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে গড়ে ওঠা নান্দনিক সব রিসোর্টে চলছে পর্যটক বরণের প্রস্তুতি। যদিও এখন রাঙামাটির প্রকৃতি কিছুটা রুক্ষ। তারপরও এই ধূসর-সবুজ রূপই অনেক ভ্রমণপিয়াসির কাছে এক ভিন্ন এবং শান্তিময় আবেদন নিয়ে ধরা দিচ্ছে।

এখন রাঙামাটি শহরে শুধু হোটেলই নয়, থাকার জন্য তৈরি হয়েছে অনেক রিসোর্ট। সেগুলোতে রয়েছে ছুটি কাটানোর চমৎকার সব আয়োজন। এই ঈদে রিসোর্টেই কাটিয়ে দিতে পারেন ছুটির দিনগুলো। রিসোর্ট ভ্রমণে রাঙামাটি দেবে একেবারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

পর্যটন মোটেল

পর্যটকদের জন্য এটি রাঙামাটি শহরে বেশ পুরোনো থাকার জায়গা। ঝুলন্ত সেতুর পাশে রয়েছে পর্যটন মোটেল। যেখানে একদম নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির মাঝে রাত কাটানোর সুব্যবস্থা রয়েছে।

আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক

রিসোর্ট পর্যটনের নতুন হাব রাঙামাটি-আসামবস্তি কাপ্তাই সড়কটি এখন দেশের অন্যতম সুন্দর ড্রাইভওয়ে হিসেবে পরিচিত। সড়ক ও নৌ—উভয় পথেই এখানে যাওয়া যায়। এই সড়কের পাশে একে একে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো রিসোর্ট।

  • রাঙা দ্বীপ: ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা রাঙা দ্বীপ রিসোর্টটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। এটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে অবস্থিত। এখান থেকে ৩৬০ ডিগ্রি কোণে কাপ্তাই হ্রদ আর পাহাড়ের দিগন্তজোড়া দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
  • বার্গী লেক ভ্যালি: হ্রদ এবং কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবস্থিত এই বার্গী লেক। শান্ত এবং নিরিবিলি পরিবেশ রিসোর্টের রুমে শুয়ে কাপ্তাই লেক ভিউ দেখার পরিবেশ বিদ্যমান এই রিসোর্টে। নেই যানবাহনের শব্দ।
  • বড়গাং, রেং, ও ইজোর: সূর্যাস্ত দেখার অনন্য আয়োজন আছে পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত এই রিসোর্টগুলোতে।
  • রান্যা টুগুন: এ রিসোর্ট প্রাকৃতিক বনে গড়ে ওঠা প্রথম রিসোর্ট। এখানে কায়াকিং, মাছ ধরা এবং পাখির কলকাকলি উপভোগ করা যায়। দেখা মেলে বনমোরগের অবাধ বিচরণ।

জুমকিং ও গাড়পাড়: হ্রদ ও নদীর মোহনায় অবস্থিত এই ইকো রিসোর্ট দুটি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

রাঙামাটির প্রধান দর্শনীয় স্থান

রাঙামাটিতে জনপ্রিয় দর্শনীয় জায়গা আছে অসংখ্য। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সাজেক ভ্যালি, কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত ব্রিজ, শুভলং ঝরনা, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার রাজবাড়ি, পলওয়েল পার্ক ও ডিসি বাংলো। পাহাড়ি এই জেলা আসলে পুরোটিই দেখার মতো। গাইড নিয়ে এসব দর্শনীয় জায়গার বাইরেও আপনি ঘুরে আসতে পারেন একেবারে নিজের মতো করে।

যাতায়াত

রাঙামাটি যেতে হলে চট্টগ্রাম হয়ে যেতে হবে। তাই দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আগে চট্টগ্রাম শহরে আসতে হবে। এ শহরের অক্সিজেন মোড়ে রাঙামাটি পাহাড়িকা বাস পাওয়া যায়। ভাড়া ১৪০ টাকা প্রতিজন।

এ ছাড়া অক্সিজেন থেকে রাঙামাটি পর্যন্ত অটোরিকশা ভাড়া ৯০০ টাকা।

এ ছাড়া সড়কপথে ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, কলাবাগান থেকে সরাসরি বাস পাওয়া যায় রাঙামাটির। এসি ও নন-এসি হিসেবে বাসগুলোর ভাড়া ভিন্ন ভিন্ন। তবে নন-এসি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং এসি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় একেকটি টিকিট পাওয়া যাবে।

আকাশপথে ঢাকা থেকে প্রথমে যেতে হবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে। এরপর ট্যাক্সি বা বাসে করে দু-তিন ঘণ্টায় রাঙামাটি পৌঁছানো সম্ভব। বিমানভাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা। বিমানবন্দর থেকে রাঙামাটি পর্যন্ত মাইক্রোবাস নিলে ভাড়া পড়বে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।

বুকিং ও প্রস্তুতি: ঈদের ছুটিতে ভিড় বেশি থাকায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে বুকিং দেওয়া জরুরি। সরকারি মোটেল কিংবা বেসরকারি রিসোর্টগুলোর ফেসবুক পেজ বা হটলাইনের মাধ্যমে অগ্রিম বুকিং করা যায়।

দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেরা ৫ হাইকিং ট্রেইল

গরমে আরামের ভ্রমণ পাহাড়ে

ভিড় এড়িয়ে অজানার পথে: বিশ্বের সেরা ‘হিডেন জেম’ শহর

পরিবারবান্ধব বিমানবন্দরের শীর্ষে ইনচন

যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকেরা

ভ্রমণকালে কেমন জুতা বেছে নেবেন

নারীদের একা ভ্রমণের জন্য নিরাপদ পাঁচ দেশ

সেরা ট্রেন্ডিং গন্তব্যে এশিয়ার পাঁচ শহর

ইচ্ছাশক্তি থাকলে কিছুই অসম্ভব নয়: সাইফুল ইসলাম শান্ত

ভ্রমণ তালিকায় রাখুন ৫ বিনয়ী মানুষের দেশ