হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

টইটম্বুর কাপ্তাই হ্রদে মেঘ-পাহাড়ের রূপকথা

হিমেল চাকমা, রাঙামাটি 

আকাশে ধবধবে সাদা মেঘের ভেলা, পাহাড়জুড়ে সবুজের উদ্দাম প্রচ্ছদ। তবে বর্ষার অকৃপণ বর্ষণে রাঙামাটির প্রকৃতি এখন নবযৌবনে দীপ্ত। এদিকে আসছে শরৎ। বহুদূর বিস্তৃত কাপ্তাই হ্রদ পূর্ণ হয়ে উঠেছে টইটম্বুর স্ফটিক স্বচ্ছ পানিতে। তার ওপর পড়েছে মেঘের ছায়া। জুমের টাটকা সবজি আর বাঁশকোঁড়লের সুবাসে ম-ম করছে পাহাড়ি বিভিন্ন রান্নাঘর। এ ছাড়া পাহাড়ের ছড়া-ঝিরিতে মিলছে তাজা দাঁড়কাঁকড়া।

জল-পাহাড়ের এই স্বপ্নিল মেলবন্ধন উপভোগ করতে পাহাড়ে যাওয়ার এখনই সময়। এই বর্ষার শেষে শরতের শুরুতে ঘুরে আসতে পারেন পাহাড় থেকে। জনপ্রিয় দর্শনীয় জায়গাগুলো এখন আরও সজীব, আরও রঙিন। যা করা যাবে এই সময়—

হ্রদের বুকে ইতিহাস ও দ্বীপ ভ্রমণ

  • বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতিসৌধ (বুড়িঘাট): চারদিকে কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি। শহর থেকে ইঞ্জিনবোটে দেড় ঘণ্টায় যাওয়া যায়। তবে যাওয়ার পথে দেখা যাবে বন্দুক ভাঙা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গ্রামের জীবনযাত্রা। এখানকার দুপুরের খাবার খেতে চাইলে গাইডের সহায়তায় অগ্রিম অর্ডার করে রাখতে হবে।
  • সুবলং ঝরনা: বর্ষায় যৌবন ফিরে পায় সুবলং ঝরনা। এর রূপ দেখতে নৌপথে পাড়ি জমাতে হবে। পথে হ্রদের বুকে গড়ে ওঠা চাংপাং এবং রাঙা বেসক্যাম্প দ্বীপ রেস্টুরেন্টে পাহাড়ি স্বাদের দুপুরের খাবার সেরে নেওয়া যাবে। এসব রেস্টুরেন্টে বসে প্রকৃতি উপভোগ করতে করতে পাহাড়ি স্বাদের দুপুরের খাওয়ার মজা একেবারে অন্য রকম।

দ্বীপ রিসোর্ট ও বিনোদন

  • রাঙাদ্বীপ রিসোর্ট: শহরের কাছে এই দ্বীপে রয়েছে কটেজ, সুইমিংপুল আর বেবি কর্নার। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর নিখুঁত ঠিকানা হতে পারে রাঙাদ্বীপ রিসোর্ট। এ রিসোর্টে রাত্রিযাপনে খরচ পড়বে সুবিধাভেদে প্রতি রাতে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।
  • পলওয়েল পার্ক ও আরণ্যক: রাঙামাটি জেলা পুলিশ পরিচালিত পলওয়েল পার্কের আধুনিক কটেজে হ্রদ ঘেঁষে থাকার অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। হ্রদের পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে মনোমুগ্ধকর কটেজ। কাপ্তাই হ্রদের পানির ঢেউয়ের কলকল শব্দ শুনে যেমন ঘুমানো যাবে, তেমনি ঘুমও ভাঙবে এই পানির শব্দে। এখানে রাত্রিযাপনে প্রতি রাতের জন্য গুনতে হবে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া রয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত আরণ্যক রিসোর্ট। প্রকৃতি আর সেনাবাহিনীর সৃষ্ট অপরূপ সৌন্দর্যের এক স্বর্গ এই আরণ্যক।
  • পর্যটন কমপ্লেক্স: সিম্বল অব রাঙামাটি খ্যাত ঝুলন্ত সেতু, যেটির অবস্থান তবলছড়ির শেষ মাথায়। নিরিবিলি প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে চাইলে পর্যটন কমপ্লেক্স সেরা। এখানে আছে সানরাইজ পার্ক। এই পার্ক থেকে সূর্যোদয় দেখা যায়। এ ছাড়া শতবর্ষী বৃক্ষের সান্নিধ্য পেতে পর্যটন করপোরেশনই ভরসা।
  • আসামবস্তি-কাপ্তাই রোড: প্রকৃতির কোলে রাত্রিযাপন করার জন্য সবুজ পাহাড় আর হ্রদের পাশ দিয়ে এঁকেবেঁকে চলা এই সড়কে গড়ে উঠেছে একাধিক চমৎকার ইকো-রিসোর্ট। সেগুলোর মধ্যে আছে বার্গী লেক ভ্যালি, রেং, বড় গাং, বেড়ান্নে, ইজোর, রান্যা টুগুন, জুমিকং ও গাংপাড় রিসোর্ট। এসব রিসোর্টে আধুনিক সুবিধাসহ নিরিবিলি রাত্রিযাপনের খরচ পড়বে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।

শহরের সাশ্রয়ী আবাসন

বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য শহরের কলেজ গেটে মোটেল জাজ, হাসপাতাল গেট এলাকায় জুম প্যালেস, বিজন সরণি এলাকায় হোটেল মাওরুম, ডিসি অফিস সংলগ্ন হোটেল ড্রিমল্যান্ড এবং হোটেল কসমস, গর্জনতলীর হোটেল সুফিয়া ইন্টারন্যাশনাল, রিজার্ভ বাজারের হোটেল মতি মহল, হোটেল রাজ, হোটেল সৈকত, গ্রিন ক্যাসেলসহ বহু মানসম্পন্ন হোটেল রয়েছে। আপনি চাইলে সেগুলোতে রাত্রিযাপন করতে পারেন। তবে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে কক্ষ পাওয়া যাবে।

তবে যেখানেই থাকুন না কেন, যাওয়ার আগে বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো। অনলাইনে এই হোটেল ও রিসোর্টগুলোর পেজ কিংবা ওয়েবসাইট আছে। সেগুলোতে বুকিং দিন।

যাতায়াত ব্যবস্থা

  • বাস: ঢাকার কলাবাগান ও অন্যান্য কাউন্টার থেকে ডলফিন, শ্যামলী, সেন্ট মার্টিন, হানিফ, ইউনিকসহ বিভিন্ন এসি/নন-এসি নাইট কোচে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টায় সরাসরি রাঙামাটি পৌঁছানো যায়। ভাড়া ৯০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে মিলবে। এ ছাড়া দেশের যেকোনো জেলা থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকেও রাঙামাটি যাওয়া যায়।
  • আকাশপথে: কম সময়ে পৌঁছাতে চাইলে ঢাকা থেকে ৪৫ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে রিজার্ভ গাড়িতে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টায় রাঙামাটি পৌঁছানো সম্ভব।

বর্ষা শেষে শরতের শুরুতে সতেজ প্রকৃতি আর পাহাড়ের হিমেল হাওয়া উপভোগ করতে ব্যাগ গুছিয়ে নিন আজই। প্রকৃতির এই রূপসী রূপ আপনাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত। তবে ভ্রমণের পথে হঠাৎ বৃষ্টি সময়ের কিছুটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তাই পূর্বপ্রস্তুতি রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

একনজরে রাঙামাটির দর্শনীয় জায়গাগুলো কাপ্তাই হ্রদ পাহাড়ঘেরা বিশাল জলরাশি, নৌভ্রমণ ও দ্বীপ রাঙামাটি ঝুলন্ত সেতু কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত রাঙামাটির প্রতীক শুভলং ঝরনা নৌপথে যাওয়ার সুন্দর অভিজ্ঞতা ও বর্ষার ঝরনা শুভলং পাহাড় পাহাড়ি প্রকৃতি ও কাপ্তাই হ্রদের দৃশ্য দুপ্পানি ঝরনা দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশে প্রাকৃতিক ঝরনা পেদা টিং টিং কাপ্তাই হ্রদের দ্বীপ, পাহাড়ি পরিবেশ ও স্থানীয় খাবার রাজবন বিহার বৌদ্ধধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা চাকমা রাজবাড়ি চাকমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ/জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পোশাক, বাদ্যযন্ত্র, কারুশিল্প ও জীবনযাত্রার নিদর্শন পলওয়েল পার্ক ও কটেজ পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি, বিনোদন ও কাপ্তাই হ্রদের দৃশ্য কাপ্তাই লেক ভিউ পয়েন্ট হ্রদ ও পাহাড়ের প্যানোরামিক দৃশ্য লাভ পয়েন্ট কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী মনোরম স্থান শান্তিধারা ঝরনা পাহাড়ি ঝরনা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মিতিংছড়ি ঝরনা অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত পাহাড়ি ঝরনা শিলছড়ি ঝরনা কাপ্তাই এলাকার প্রাকৃতিক আকর্ষণ কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান পাহাড়ি বন, জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতির পরিবেশ বনরূপা ভাসমান বাজার স্থানীয় জীবনযাত্রা ও পাহাড়ি পণ্য দেখার সুযোগ