হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

২০ বছর একা ভ্রমণের পর গ্রুপ ট্যুরে গিয়ে প্রেমে পড়লেন লিডিয়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

শ্রীলঙ্কান গাইড সুরঙ্গার প্রেমে পড়েছেন ব্রিটিশ ভ্রমণবিষয়ক লেখক লিডিয়া। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

দুই দশক ধরে একাই পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরেছেন ব্রিটিশ ভ্রমণবিষয়ক লেখক লিডিয়া সোয়িনস্কো। জর্জিয়া, ভারত, কলম্বিয়াসহ বহু দেশ ঘুরলেও তাঁর ভ্রমণতালিকায় শ্রীলঙ্কা ছিল না। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় একটি ১২ দিনের গ্রুপ ট্যুরে যোগ দিয়েই জীবনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি—প্রেমে পড়ে গেছেন ভ্রমণসঙ্গী হিসেবে পাওয়া এক গাইডের!

গ্রুপ ট্যুরের জনপ্রিয়তা কেন বাড়ছে, বিশেষ করে নিজের প্রজন্মের মানুষের মধ্যেই কেন এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হচ্ছে—এমন একটি প্রতিবেদনের কাজেই ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিলেন লিডিয়া। পরিকল্পনা ছিল, গ্রুপ ট্যুরের আগে ও পরে একা ভ্রমণ করবেন। কারণ সংগঠিত ও নির্দিষ্ট সময়সূচির ভ্রমণের চেয়ে ধীর গতিতে নিজের মতো করে ঘুরতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেই অবশ্য দ্বীপদেশটির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন লিডিয়া। নারকেল গাছ ঘেরা উপকূল, জঙ্গলের মধ্যে সাদা বৌদ্ধস্তূপ, প্রাচীন রাজ্যগুলোর ইতিহাস ও কিংবদন্তি এবং অসংখ্য সৈকত তাঁকে আকৃষ্ট করে।

১২ দিনের সফরে লিডিয়ার সঙ্গে ছিলেন আরও ৯ জন পর্যটক। এর মধ্যে পাঁচ নারী ও চার পুরুষ। তাঁদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক; ছিলেন কয়েকজন ব্রিটিশ ও একজন অস্ট্রেলীয়। তাঁদের বয়স ৩০-এর শুরু থেকে ৪০-এর শেষ পর্যন্ত। দলের গাইড ছিলেন সুরঙ্গা; দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সম্পর্কে যার গভীর জ্ঞান এবং রসবোধ দ্রুতই লিডিয়ার নজর কাড়ে।

নেগোম্বোর মাছের বাজার থেকে প্রাচীন পোলোনারুয়া, হাপুতালে ও এল্লার বিখ্যাত নাইন আর্চ ব্রিজ, ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কের সাফারি, গল ফোর্ট হয়ে কসগোডার সৈকত—অল্প সময়ে শ্রীলঙ্কার নানা প্রান্ত ঘুরে দেখেন তাঁরা।

সম্পর্কের মোড় ঘুরে যায় সফরের অষ্টম দিনে। ইয়ালা থেকে ফেরার পর দলীয় নৈশভোজ শেষে নিজের ঘরে ফেরার সময় লিডিয়ার ফোন পড়ে গিয়ে ভেঙে যায়। ব্যস্ত সফরসূচির কারণে তখন ফোন মেরামতের সুযোগ ছিল না। পরে সফর শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর সুরঙ্গা নিজেই তাঁকে ফোন ঠিক করাতে কলম্বোর ব্যস্ত পেট্টাহ এলাকায় নিয়ে যান।

সেদিন তাঁরা একসঙ্গে কফি, মধ্যাহ্নভোজ ও শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত কিং নারকেলের পানীয় ‘থ্যাম্বিলি’ উপভোগ করেন। গ্রুপ ট্যুরের আনুষ্ঠানিক পরিবেশের বাইরে এসে দুজনের মধ্যে দীর্ঘ আলাপ জমে ওঠে। বিদায়ের সময় লিডিয়া বুঝতে পারেন, সুরঙ্গাকে ছেড়ে যেতে তাঁর মন খারাপ করছে।

এরপর আরও কয়েকবার দেখা হয় তাঁদের। লিডিয়া শ্রীলঙ্কায় অবস্থান বাড়িয়ে জাফনা, অনুরাধাপুরা ও মালিগাওয়িলার প্রাচীন নিদর্শন দেখতে যান। কয়েক মাস ধরে তাঁরা নিয়মিত ফোনে কথা ও বার্তা বিনিময় করতে থাকেন। ছয় মাস পর দুজন সিদ্ধান্ত নেন, সম্পর্কটিকে তাঁরা সত্যিই একটি সুযোগ দেবেন।

দুই বছরেরও বেশি সময় পরও তাঁরা এখন একসঙ্গে আছেন। দেশের কম পরিচিত অঞ্চলগুলোতে ঘুরে বেড়িয়েছেন, উইলপাত্তু ন্যাশনাল পার্কে ভোর ৪টায় উঠে পাখি ও বানরের ছবি তুলেছেন, মান্নারসহ নানা এলাকায় ঘুরেছেন।

লিডিয়ার উপলব্ধি, গ্রুপ ট্যুর এখনো তাঁর পছন্দের ভ্রমণপদ্ধতি নয়। তিনি ধীরগতির, স্বতন্ত্র ভ্রমণই পছন্দ করেন। কিন্তু সেই অপছন্দের অভিজ্ঞতাই তাঁকে এমন একজন মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, যার সঙ্গে হয়তো অন্য কোনো পথে তাঁর কখনো দেখা হতো না।

লিডিয়ার ভাষায়—কখনো কখনো ভুল মনে হওয়া পথই মানুষকে ঠিক সেই জায়গায় পৌঁছে দেয়, যেখানে তার আসলে পৌঁছানো প্রয়োজন।