হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

মীর ও আমালের রোমাঞ্চকর বিশ্ব রেকর্ড

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

ভারতের হায়দরাবাদের শাকিল এবং জেদ্দার আমাল বিয়ের পর ৬ বছর ধরে একসঙ্গে বাইক চালাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

দুই চাকা, চারটি দেশ আর একটি রেকর্ড। দম্পতিরা আজকাল অনেকে মোটরবাইক ভ্রমণ করেন। রেকর্ড করার নেশাও আছে অনেকের। তাঁদের মতোই এক দম্পতি মীর ও আমাল। জেদ্দাপ্রবাসী দম্পতি মীর শাকিল উর রহমান এবং আমাল আহমেদের কাছে মোটরবাইকে ভ্রমণ আত্ম-আবিষ্কার এবং ভালোবাসার এক অনন্য ভাষা। সম্প্রতি এই দম্পতি তাঁদের মোটরসাইকেলে চড়ে জিসিসি অঞ্চলের চার দেশে ৬ হাজার ২১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন।

ভারতের হায়দরাবাদের শাকিল এবং জেদ্দার আমাল বিয়ের পর ৬ বছর ধরে একসঙ্গে বাইক চালাচ্ছেন। এর আগে তাঁরা সৌদি আরবের মক্কা, জাজান, আভা, রিয়াদ ও দাম্মামের মতো শহরগুলোতে ঘুরে বেড়িয়েছেন মূলত দেশটির পর্যটনকে তুলে ধরতে। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষে তাঁরা জেদ্দা থেকে বের হন এক মহাকাব্যিক অভিযানের উদ্দেশে। তাঁদের লক্ষ্য ছিল সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও বাহরাইন ভ্রমণ। ২৪ দিনের সেই দীর্ঘ যাত্রার উদ্দেশ্য শুধু নতুন দেশ দেখা ছিল না; বরং বন্ধুত্বের বন্ধন উদ্‌যাপন করাও ছিল। ‘আরব নিউজ’কে শাকিল জানান, তাঁরা ওমান ও আরব আমিরাতের জাতীয় দিবস এবং বাহরাইনের বাইক উইকে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। রিয়াদে অবস্থানকালে তাঁরা ইরাক ও বাহরাইনের বাইকারদের সঙ্গে দেখা করেন এবং ওমানি দূতাবাসে দেশটির ৫৪তম জাতীয় দিবসে যোগ দেন।

রিয়াদ থেকে আমিরাত সীমান্তের পথে বালুঝড় তাঁদের যাত্রাকে কিছুটা কঠিন করে তুলেছিল। তবে সৌদি টহল পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা নিরাপদে আবুধাবি পৌঁছান। সেখানে আরব আমিরাতের ফাদার অব অল বাইকার্স শেখ সুহাইল বিন হাশের আল-মাকতুমের খামারে বিশ্বের অনেক দেশের বাইকাররা আসেন। তাঁদের সঙ্গে দেশটির ৫৩তম জাতীয় দিবস উদ্‌যাপন করেন মীর ও আমাল। আমালের মতে, এখানকার মানুষের আতিথেয়তা তাঁদের যাত্রাকে আরও আনন্দময় করে তুলেছিল। এরপর ওমানে পৌঁছে তাঁরা নিজওয়া দুর্গ এবং জেবেল আখদার বা সবুজ পাহাড় ভ্রমণ করেন। ওমানি বাইকার বন্ধুরা তাঁদের বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখতে সাহায্য করেন। এরপর তাঁরা বাহরাইনে গিয়ে অংশ নেন বার্ষিক বাহরাইন বাইক উইকে।

যাত্রা শেষে এই দম্পতির জন্য অপেক্ষা করছিল এক দারুণ খবর। ‘কালামস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড’ থেকে জানানো হয়, শাকিল-আমাল দম্পতি হিসেবে দীর্ঘতম মোটরসাইকেল অভিযানের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। মীর এই অর্জন তাঁর স্ত্রী আমালকে উৎসর্গ করেছেন। ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। রেকর্ড গড়ার পর এই দম্পতি এখন থামতে নারাজ। এই রোমাঞ্চকর সফর শেষ হতে না হতেই তাঁরা পরবর্তী অভিযানের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন। তাঁদের এই যাত্রা দেখে বোঝা যায়, উদ্যম আর পারস্পরিক ভালোবাসা থাকলে মাইলের পর মাইল কঠিন পথও হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

সূত্র: আরব নিউজ

পর্যটক ইয়াসির আরাফাতের চোখে সেরা থাইল্যান্ড নাকি মালয়েশিয়া

অ্যাঞ্জেল ডেলগাডিলো: দ্য ফাদার অব দ্য মাদার রোড

ফু কুয়োক: যেখানে সবুজের কোলে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ব স্থাপত্য

মে থেকে ফ্লাইট কমাবে থাই এয়ারওয়েজ

মিশেলিন গাইডের চোখে এ বছর ভোজনরসিকদের সেরা গন্তব্য

দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেরা ৫ হাইকিং ট্রেইল

গরমে আরামের ভ্রমণ পাহাড়ে

ভিড় এড়িয়ে অজানার পথে: বিশ্বের সেরা ‘হিডেন জেম’ শহর

পরিবারবান্ধব বিমানবন্দরের শীর্ষে ইনচন

যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকেরা