শুধু প্রকৃতিতেই নয়, এখন প্রযুক্তির দুনিয়ায় জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া যায়। একসময় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মানেই ছিল নিরাপত্তায় ঘেরা অফিস। এই ধারণা এখন অনেকটাই বদলেছে। বিশ্বজুড়ে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মানুষের কৌতূহল মেটাতে ব্যবহার করছে তাদের ব্র্যান্ডের শক্তি। আংশিকভাবে হলেও খুলে দিচ্ছে নিজেদের দরজা, কেউ দিয়েছে ভিজিটর সেন্টার, কেউ মিউজিয়াম, কেউ আবার ওপেন ক্যাম্পাসের অভিজ্ঞতা।
ফলে প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য তৈরি হয়েছে এক নতুন ধরনের টেক ট্যুরিজম। এ ধারায় যুক্ত হয়েছে গুগল, অ্যাপল, মেটা, ইন্টেল, মাইক্রোসফট, টেসলা।
গুগল: সৃজনশীলতার খোলা আঙিনায়
অনুমতি ছাড়া গুগল অফিসে প্রবেশ করা না গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গুগলপ্লেক্স অর্থাৎ গুগল কমপ্লেক্সে যাওয়া যায়। এটি যেন একটি ‘ওপেন আইডিয়া সিটি’! টিকিট ছাড়া এখানে অবাধে ঘুরে বেড়ানো যায়। কর্মক্ষেত্রও যে আনন্দময় হতে পারে, গুগলপ্লেক্স দেখলে সেটা বোঝা যায়। এই কমপ্লেক্সের পাশের শোর লাইন লেক পার্কে গিয়ে প্রকৃতি ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন অনুভব করা যায়।
কী দেখবেন
অ্যান্ড্রয়েডের বিভিন্ন চিহ্নের ভাস্কর্য, রঙিন গুগল বাইক এবং গুগলের সবুজ, টেকসই স্থাপত্য।
মেটা: সোশ্যাল মিডিয়ার বাস্তব মুখ
একবার ভাবুন, আপনি মেটা হেডকোয়ার্টার্সের বাইরের উন্মুক্ত অংশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, রিলস তৈরি করছেন এবং ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে আপলোড করছেন! ব্যাপারটা শিহরণ জাগাবে নিশ্চয়। মেটা হেডকোয়ার্টার্সের বাইরের অংশ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত। অফিসের ভেতরে ঢুকতে হলে মেটার কোনো কর্মীর আমন্ত্রণপত্র প্রয়োজন হবে।
কী দেখবেন
বিখ্যাত ‘লাইক’ থাম্ব সাইন, আধুনিক, ওপেন-স্পেস অফিস ডিজাইন, আমন্ত্রণ পেলে ভেতরের কর্মপরিবেশ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার পেছনের বাস্তব পরিবেশ দেখার সুযোগ আছে এখানে।
অ্যাপল: ডিজাইনের সৌন্দর্য
হাতের আইফোন দিয়ে অ্যাপল পার্ক ভিজিটর সেন্টারের ছবি তুলতে নিশ্চয় আপনার খারাপ লাগবে না। সেই সুযোগ করে দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। নির্দিষ্ট ফি দিয়ে, নির্দিষ্ট
সময়ে অ্যাপল পার্ক ভিজিটর সেন্টার দেখা যায়।
কী দেখবেন
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপল পার্ক ভিজিটর সেন্টারে অত্যাধুনিক অগমেন্টেড রিয়েলিটি বা এআর মডেলে বিশেষ আইপ্যাডে অ্যাপল ক্যাম্পাসের ডিজিটাল দৃশ্য, ভবনের ভেতরের অংশ, দিনের বিভিন্ন সময়ের আলো এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখা যাবে। দেখা যাবে অ্যাপলের এক্সক্লুসিভ পণ্য।
মাইক্রোসফট: ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের রেডমন্ডে অবস্থিত মাইক্রোসফট সদর দপ্তরের বিল্ডিং ৯২-তে মাইক্রোসফট ভিজিটর সেন্টার। এখানে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস, বিভিন্ন পণ্য এবং সর্বশেষ প্রযুক্তি সরাসরি দেখা ও ব্যবহারের সুযোগ আছে। এখানে মাইক্রোসফটের ঐতিহাসিক পণ্যের জাদুঘরও আছে। অফিস চলাকালে এটি খোলা থাকে। মাইক্রোসফট ভিজিটর সেন্টার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
কী দেখবেন
এখানে উইন্ডোজ, এক্সবক্স, সারফেসের পরিবর্তন এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিসপ্লে দেখা যায়।
ইন্টেল জাদুঘর: মাইক্রো চিপের রহস্য
ইন্টেল মিউজিয়াম ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় অবস্থিত জাদুঘর। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, প্রসেসর তৈরির প্রক্রিয়া এবং ইন্টেলের ৫০ বছরের বেশি উদ্ভাবনের ইতিহাস প্রদর্শিত হয়। বিনা মূল্যে দেখা যায় এটি।
এখানে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ, ট্রানজিস্টরের বিবর্তন এবং বিভিন্ন পণ্যের লাইভ ডেমো দেখা যায়।
কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়াম
এটি কম্পিউটারে ইতিহাসবিষয়ক জাদুঘর। ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে এর অবস্থান। এই জাদুঘর সিলিকন ভ্যালি ও তথ্য যুগের গল্প এবং বিভিন্ন নিদর্শন প্রদর্শন করে দর্শকদের জন্য। এটি দেখতে টিকিট কিনতে হয়। এখানে গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা আছে।
কী দেখবেন
এখানে প্রাচীন কম্পিউটার, এআই এবং ইন্টারনেটের ইতিহাস দেখার সুযোগ আছে।
এ ছাড়া ‘ফ্যাক্টরি অব দ্য ফিউচার’ নামে পরিচিত টেসলা সীমিত আকারে তাদের ফ্যাক্টরি দেখার সুযোগ দেয়। তবে এর জন্য আগাম বুকিং করতে হয়। টেসলার ফ্যাক্টরিতে রোবট দিয়ে গাড়ি তৈরি ও অ্যাসেম্বলি লাইন দেখার সুযোগ আছে।
ভ্রমণ টিপস