বিমানবন্দরে পৌঁছেই সঙ্গীর কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া—শুনতে বিচিত্র লাগলেও ভ্রমণপিপাসু দম্পতিদের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত এই ধারণাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’। তবে নামের সঙ্গে বাস্তব বিচ্ছেদের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি ভ্রমণের আগে কিছুটা ব্যক্তিগত সময় কাটানোর কৌশল।
ব্রিটিশ ভ্রমণ সাংবাদিক ও কলাম লেখক হিউ অলিভার ২০২৫ সালে ‘দ্য সানডে টাইমস’-এর একটি লেখায় এই ধারণার কথা তুলে ধরেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, দম্পতিরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিজেদের মতো করে সময় কাটাবেন এবং নির্ধারিত বোর্ডিং গেটে গিয়ে আবার একসঙ্গে হবেন। কেউ কেউ চাইলে পুরো যাত্রাটিও আলাদাভাবে করার কথা ভাবতে পারেন।
ধারণাটির মূল উদ্দেশ্য হলো ভ্রমণের শুরুতেই অপ্রয়োজনীয় মনোমালিন্য এড়ানো। কারণ বিমানবন্দরে দীর্ঘ নিরাপত্তা তল্লাশি, গেট পরিবর্তন, অপেক্ষা, ক্ষুধা কিংবা সময়ের চাপ অনেক সময় মানুষের স্বাভাবিক আচরণে প্রভাব ফেলে। ফলে সাধারণত ছোটখাটো বিষয়ও বড় বিরোধে রূপ নিতে পারে।
অলিভার তাঁর লেখায় ২০২৩ সালের ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি জরিপের উল্লেখ করেন। সেখানে প্রায় ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছিলেন, বিমানবন্দরে গেলে তাঁদের ব্যক্তিত্ব বা আচরণে পরিবর্তন আসে।
ভ্রমণে সবার পছন্দ এক নয়। কেউ বিমানবন্দরে বসে বই পড়তে চান, কেউ দোকান ঘুরে দেখতে বা লাউঞ্জে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। আবার কেউ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে চান। এসব পার্থক্যকে সমস্যা না বানিয়ে কিছুটা ব্যক্তিগত পরিসর দেওয়াই ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’-এর ধারণা।
বিশেষজ্ঞরা না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় অনেকে বলছেন, এটি বিচ্ছেদের চেয়ে বরং ‘সম্পর্কের জন্য একটি বাফার’। কারণ ভিন্ন ভ্রমণ-অভ্যাস মানেই যে সম্পর্কের অমিল, তা নয়। বরং সামান্য স্বাধীনতা অনেক সময় পুরো যাত্রাটিকেই আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে।