মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির বুকে ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। দেশটিতে এ বছর যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘ড্রিম অব দ্য ডেজার্ট’ নামে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম বিলাসবহুল পর্যটন ট্রেন। এই বিশেষ ট্রেনের মাধ্যমে সৌদি আরব শুধু নতুন পরিবহনব্যবস্থা নয়, বিলাসবহুল ভ্রমণের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা উপহার দিতে চায় আন্তর্জাতিক পর্যটকদের।
সৌদি রেলওয়ে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সৌদি ট্যুরিজম কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নকশা ও পরিচালনায় যুক্ত হয়েছে ইতালির খ্যাতনামা বিলাসবহুল ট্রেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আরসেনালে। প্রথমবারের মতো এই ট্রেনের কথা সামনে আসে ২০২৪ সালে।
কতজন যাত্রী, কী কী সুবিধা
এই ট্রেনে থাকবে মোট ৩১টি স্যুট। এগুলোর মধ্যে দুটি হবে প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট। একবারে সর্বোচ্চ ৬৬ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন এই ট্রেনে। এতে থাকছে—
সৌদি সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত নকশা
ট্রেনটির নকশা করেছেন খ্যাতনামা স্থপতি ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আলিন আসমার দ’আম্মান। কাঠের নকশা, আরবি ক্যালিগ্রাফি, নরম আলো আর সৌদি ঘোড়সওয়ার সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকবে এর সজ্জায়। সব মিলিয়ে এটি হবে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেল।
পাঁচটি বিশেষ যাত্রাপথ
ড্রিম অব দ্য ডেজার্ট সৌদি আরবজুড়ে পাঁচটি বিশেষ রুটে চলাচল করবে। প্রতিটি যাত্রা হবে এক বা দুই রাতের।
নন-স্টপ যাত্রা। মরুভূমির শান্ত পরিবেশে বিলাসবহুল বিশ্রামের ব্যবস্থা।
এসব যাত্রাপথে থাকছে মরুভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ইউনেসকো স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী স্থান দেখার সুযোগ।
এই ট্রেন শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, এটি সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ভিশন ২০৩০-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটি তার পর্যটন খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় করতে চায়।
তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য। ড্রিম অব দ্য ডেজার্ট সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ। এই ট্রেনের মাধ্যমে সৌদি আরব তাদের মরুভূমি, ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়কে নতুনভাবে তুলে ধরতে চায়।
বিশ্বের অন্যান্য বিলাসবহুল ট্রেনযাত্রার মতো, এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে শুধু পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে না, একই সঙ্গে সৌদি আরবকে একটি বিশ্বমানের ভ্রমণগন্তব্য হিসেবে পরিচিত করতেও ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: আরব নিউজ