হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন খাগড়াছড়ি থেকে

নীরব চৌধুরী বিটন, খাগড়াছড়ি

চারদিকে সবুজ পাহাড়, মাঝখানে আঁকাবাঁকা পিচ ঢালা সড়ক, ঝরনা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, মেঘের খেলা; ভ্রমণপিয়াসি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এ সময়ের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে পাহাড়ের রানি হিসেবে খ্যাত খাগড়াছড়ি।

যা দেখবেন

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি। তাই পাহাড়ই তার প্রধান আকর্ষণ। তবে পাহাড় আর বনের বাইরেও এখানে বিশেষ কিছু দর্শনীয় জায়গা রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থিত। এখানে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এক রহস্যময় সুড়ঙ্গ রয়েছে। এই সুড়ঙ্গের এক প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হওয়ার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের জন্য রোমাঞ্চকর। সূর্যাস্তের পর আলুটিলা থেকে খাগড়াছড়ি শহরের দৃশ্য দেখা যায়।

রিসাং ঝরনা বা তৈইবাকলাই আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে পৌঁছালে দেখা মেলে ঠান্ডা স্বচ্ছ জলের ধারা।

খাগড়াছড়ি শহরের দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে আছে নিউজিল্যান্ডপাড়া। পানখাইয়াপাড়া আর পেরাছড়ার কিছু অংশ নিয়ে

এই পাড়া গঠিত। নিউজিল্যান্ডপাড়ার আকর্ষণীয় রূপ হচ্ছে সড়কের ওপর বসে পাহাড় দেখা। এখান থেকে আরও দেখা যাবে নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। এ ছাড়া পাহাড়ি জনপদের জীবনযাপনসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনেক কিছু দেখা যাবে কাছ থেকে।

জেলা শহর থেকে ২০ মিনিটের পথ পেরোনোর পরই দেখা মিলবে বিনোদনকেন্দ্র মায়াবিনী লেকের। পাহাড়ের উঁচু-নিচু ভাঁজে ভাঁজে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা এই লেকের ওপরে আছে ব্রিজ। এর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলছে হাঁস। প্রশস্ত লেকের স্বচ্ছ পানিতে নৌকা ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে।

পাহাড় চূড়ার স্বচ্ছ জলাধার মাতাই পুখিরি কিংবা দেবতা পুকুর। এই জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি থলিপাড়ায় ৭৫০ ফুট উঁচু পাহাড়চূড়ায় এই দেবতা পুকুর। স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মতে, এই পুকুরের পানি কখনো কমে না বা পরিষ্কার করতে হয় না; বিশেষ করে বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে হাজারো পর্যটকের সমাগম ঘটে।

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম সীমানাপাড়া গ্রামে অবস্থিত তৈদুছড়া ঝরনা। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে যেতে হয়। পথে আরও দেখা মেলে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন। ঝরনায় যাওয়ার পথে ছড়ায় বড় বড় পাথর মুগ্ধতা ছড়ায় পর্যটকদের মাঝে।

আরও রয়েছে জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, যেটি শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে। এ ছাড়া আছে ঝুলন্ত সেতু, লেক, কিডস জোন, ফোয়ারা, কটেজ, ওয়াচ টাওয়ার।

যেভাবে আসবেন

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেতে হবে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে। সেখান থেকে বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গায়। ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাসে যাওয়া যায় খাগড়াছড়ি। এসি বাসের ভাড়া ১ হাজার ৭০০ এবং নন-এসি ৭৫০ টাকা। ভোরে বাস থেকে নামতে হবে শাপলা চত্বর এলাকায়।

কোথায় থাকবেন

খাগড়াছড়ি শহরে পর্যটন মোটেলসহ বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। মান ও সুবিধাভেদে এগুলোতে প্রতি রাতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে থাকা যায়।

ভাড়ার গাড়ির তথ্য

খাগড়াছড়ি গেট এলাকায় সড়ক পরিবহন জিপ মালিক সমিতি ও পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যাণ সমিতির যৌথ কাউন্টার রয়েছে। তাদের নির্ধারিত ভাড়ায় চাঁদের গাড়ি, পিকআপ বা সাফারি নেওয়া যায়।

এ ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মাহিন্দ্র রয়েছে।

সতর্কতা

  • অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে আগে থেকে হোটেল ও গাড়ি বুকিং নিশ্চিত করতে হবে।
  • যেকোনো ঝরনায় নামার আগে পাথরের পিচ্ছিলতা খেয়াল রাখবেন।
  • স্থানীয় সংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানাতে হবে।
  • পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলে আসবেন না।

সেরা ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সম্মানিত হলেন সালাহউদ্দিন সুমন

শ্রীমঙ্গলের সবুজ সাম্রাজ্যে এক দিন

টেক ট্যুরিজম: ভবিষ্যতের পৃথিবীতে ভ্রমণ

সাশ্রয়ী ফ্লাইট খোঁজার সেরা ৫ অ্যাপ

৩৩ বছর পূর্তি

জাহাজে বিশ্বভ্রমণ করতে চান, জেনে নিন ওয়ার্ল্ড ক্রুজের তথ্য

রোমাঞ্চকর গলাচিপা খুমে

ভ্রমণকালে কোন সতর্কসংকেতে কী করণীয়

ভ্রমণের তালিকায় রাখুন বছর সেরা ১০ সবুজ শহর

হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের সময় যা মনে রাখবেন