হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

চালু হচ্ছে ২০ ঘণ্টার বিরতিহীন ফ্লাইট, কী আছে এই উড়োজাহাজে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকা বিরতিহীন ফ্লাইট চালাবে কান্টাস। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের দীর্ঘতম আকাশপথের বিরতিহীন ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলীয় বিমান সংস্থা কান্টাস এয়ারওয়েজ। আগামী বছরের (২০২৭ সাল) অক্টোবর থেকে সিডনি ও লন্ডনের মধ্যে চালু হবে এই ফ্লাইট। সিডনি-লন্ডন রুটের পর সিডনি থেকে নিউইয়র্কেও এই বিরতিহীন ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কান্টাসের।

প্রায় ২০ ঘণ্টার এই দীর্ঘ বিমান যাত্রায় ট্রানজিট বা যাত্রাবিরতি এড়াতে যাত্রীরা কেন অতিরিক্ত ভাড়া বা প্রিমিয়াম দেবেন, তা বোঝাতে সম্প্রতি বিমান সংস্থাটি এই রুটের পেছনের বৈজ্ঞানিক গবেষণার নানা দিক বিশদভাবে তুলে ধরেছে। এ ছাড়া যাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করতে এবার বিজ্ঞানের দ্বারস্থ হচ্ছে সংস্থাটি। বিরতিহীন এই ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য বিশেষ ‘ওয়েলনেস জোন’ (শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির স্থান), বাড়তি লেগরুম, সময় মেপে খাবার পরিবেশন এবং কৃত্রিম আলোর বিশেষ ব্যবহারসহ নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জেট ল্যাগ মোকাবিলার বৈজ্ঞানিক লড়াই

কান্টাসের এই দীর্ঘতম ফ্লাইটের প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’। এই প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যুক্ত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সিডনির স্লিপ মেডিসিন (ঘুমবিষয়ক চিকিৎসা) বিভাগের অধ্যাপক পিটার চিস্টুলি।

পিটার চিস্টুলি বলেন, ‘লন্ডনের ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৯টি এবং নিউইয়র্কের ক্ষেত্রে ১৪ থেকে ১৬টি টাইম জোন অতিক্রম করা মানবদেহের জৈবিক ঘড়ির জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ।’

গবেষণায় দেখা গেছে, বিমান আকাশে ওড়ার পরপরই খাবার পরিবেশন পরিহার করা এবং আলোর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে কেবিনের ভেতরে একটি কৃত্রিম ‘সুরক্ষিত ঘুমের সময়’ তৈরি করলে যাত্রীদের শরীরের ক্লান্তি অনেক কমে যায়। প্রথাগত ফ্লাইটের তুলনায় এই পদ্ধতিতে যাত্রীরা অনেক বেশি সতেজ ও সতর্ক থাকেন বলে জানান অধ্যাপক চিস্টুলি।

কেবিনের নকশা ও বিশেষ ‘ওয়েলনেস জোন’

এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ ইউএলআর মডেলের উড়োজাহাজগুলোতে এই সেবা দেওয়ার জন্য প্রায় এক দশক ধরে পুষ্টিবিজ্ঞান, মানবদেহের এরগনোমিকস (সহজ ও আরামদায়ক অবস্থান তত্ত্ব) এবং কৃত্রিম আলোর প্রভাব নিয়ে বিশদ গবেষণা করা হয়েছে।

উড়োজাহাজের কেবিন ডিজাইনার ডেভিড কাওন জানান, এই নকশা তৈরির কাজটি নান্দনিকতার চেয়ে স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছিল। তিনি প্রথমে কেবিনের ভেতর ব্যায়ামের সাইকেল বা ইয়োগা ম্যাটের মতো ধারণা নিয়ে কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট ‘ওয়েলনেস জোন’ বা শারীরিক প্রশান্তির স্থান তৈরি করেছেন। মৃদু ও কম্পমান আলোয় ঘেরা স্থানটি সম্পর্কে কাওন বলেন, ‘আমি মূলত একটি সুইমিংপুলের পাশে শুয়ে থাকার মতো অনুভূতি তৈরি করতে চেয়েছিলাম।’

এ ছাড়া পুরো কেবিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা ১৪টি ভিন্ন ‘লাইট সিনারিও’ বা আলোকসজ্জা ব্যবহার করা হবে, যা বিমানের সামনের অংশ থেকে পেছন পর্যন্ত কৃত্রিমভাবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আবহ তৈরি করবে।

ব্যবসায়িক লক্ষ্য ও চড়া ভাড়ার সম্ভাবনা

এত দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য উড়োজাহাজের ওজন কমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি ও ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কান্টাস এই বিমানগুলোতে যাত্রী সংখ্যা মাত্র ২৩৮ জনে সীমিত রাখছে। প্রিমিয়াম কেবিনকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো এই ফ্লাইটে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কান্টাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ভ্যানেসা হাডসন জানান, পার্থ থেকে ইউরোপের সরাসরি ফ্লাইটগুলোর সফলতাই প্রমাণ করে যে যাত্রীরা বিরতিহীন ফ্লাইটের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দিতে প্রস্তুত।

তবে বিমানের পেছনের অংশে সাধারণ ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীদের জন্য সিটের দূরত্ব বা লেগরুম ৩৩ ইঞ্চি (৮৪ সেমি) রাখা হচ্ছে, যা সাধারণ বিমানের চেয়ে কিছুটা বেশি। এ ছাড়া আরও একটু বেশি জায়গাসহ ‘ইকোনমি প্লাস’ (৩৪ ইঞ্চি লেগরুম) টিকিটও বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে বিমানের প্রথম শ্রেণিতে যুক্ত করা হচ্ছে নির্দিষ্ট বিছানাসহ সম্পূর্ণ ঘেরা বিলাসবহুল স্যুট।

যাত্রীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দীর্ঘ সময় ট্রানজিটের ঝামেলা এড়াতে পারলেও চড়া ভাড়ার যৌক্তিকতা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্যারিস থেকে সিডনি যাতায়াতকারী পানীয় বিপণন খাতের কর্মী স্যাম ডেভিস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ১৯৩ সেন্টিমিটার (৬ ফুট ৪ ইঞ্চি) উচ্চতার এই যাত্রী বলেন, ‘সিডনিতে ঘুম থেকে উঠে সরাসরি পৌঁছে যাওয়াটা দারুণ অনুভূতি। তবে আমার মতো দীর্ঘদেহীদের জন্য ইকোনমি ক্লাসের সিটে আরাম কেমন হবে, তা বিস্তারিত না জেনে বলা কঠিন।’

অন্যদিকে মেলবোর্নের করপোরেট কর্মকর্তা ইয়ান মরডেনের মতে, ট্রানজিট এড়িয়ে মাত্র ৪ ঘণ্টা সময় বাঁচানোর জন্য ২০ শতাংশ বেশি ভাড়া দেওয়া অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ‘সামান্য বেশি ভাড়া মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু এমনিতেই বিজনেস ক্লাসের ভাড়া অনেক বেশি, তার ওপর আরও ২০ শতাংশ বাড়তি দেওয়া আমার পক্ষে কঠিন।’

তবে নিউইয়র্কের কৌশলগত উপদেষ্টা মার্ক লেভিন মনে করেন, এই সরাসরি ফ্লাইটগুলো দুই মহাদেশে ছড়িয়ে থাকা কর্মব্যস্ত মানুষের জীবনের গতি বাড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক দূরত্ব হয়তো কমবে না, তবে যাতায়াতের পথটাকে এখন অনেক ছোট মনে হবে।’

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

আঞ্চলিক বিমান চলাচল হাব হওয়ার দৌড়ে দুই দেশ

মব ফুটবল: ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত ফুটবলের অশান্ত শৈশবের নিদর্শন

এবার আর্কটিক অভিযানে সালাহউদ্দিন সুমন ও নিলয়

রোমাঞ্চকর ট্রেইল মূরনখল

নারী সলো ট্রাভেলারদের জন্য সেরা ১০

সুফি নাইটস উদ্‌যাপন করল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট

বিশ্ব মঞ্চে কুরাসাও

আমার ল্যুভ দর্শন

মেঘের ক্যানভাসে লুসাই সাংস্কৃতিক পার্ক

বিশ্বের শীর্ষ পর্যটন বাজারের পথে চীন