হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

ইতালির সৈকতে পুরুষদের অংশে তরুণীর প্রবেশ নিয়ে তুমুল হট্টগোল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইতালির ‘পেদোচিন’ সৈকতটি নারী-পুরুষের জন্য এভাবেই বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। ছবি: ডেইলি মেইল

ইউরোপের একমাত্র লিঙ্গ-ভিত্তিক বিভক্ত সৈকত ইতালির ‘আল্লা ল্যান্টার্না’-এর স্থানীয় নাম ‘পেদোচিন’। শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই সৈকতে সম্প্রতি এক অভূতপূর্ব হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এক তরুণী পর্যটক পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় গিয়ে রোদ পোহাতে অস্বীকৃতি জানালে এই ঝামেলার সূত্রপাত হয়।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মিলান থেকে আসা এক তরুণী তাঁর সঙ্গীকে নিয়ে ইতালির উত্তর উপকূলের ট্রিয়েস্ট শহরের ওই সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি সৈকতের পুরুষদের অংশে গিয়ে বসেন। সে সময় ৫০ বছর বয়সী এক নারী তাঁকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করেন। উল্লেখ্য, বয়স্ক ওই নারী তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলেকে টয়লেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর স্বামীর সাহায্য চাইতে সাময়িকভাবে পুরুষদের অংশে গিয়েছিলেন।

পরে বয়স্ক নারীটি সৈকতের নিয়ম মনে করিয়ে দিতেই খেপে যান মিলানের ওই তরুণী। তিনি সৈকতের নিয়মকে ‘মধ্যযুগীয়’ ও ‘পশ্চাৎপদ’ বলে আখ্যা দেন এবং প্রতিবাদকারী নারীকে ‘বর্ণবাদী’ ও ‘লিঙ্গবাদী’ বলে গালিগালাজ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা মধ্যযুগে বাস করছেন। এটি সরাসরি বৈষম্য। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত। যদি আপনাদের এমন নিয়মই থাকে, তবে আপনারা ইতালীয় নাগরিক হওয়ার যোগ্য নন।’

একপর্যায়ে তরুণীটি ওই বয়স্ক নারীর দিকে তেড়ে যান এবং হাত তোলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সৈকতের এক নারী কর্মীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত পুরুষদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ঘটনার পর পর্যটক দম্পতি সৈকত ত্যাগ করেন, তবে তাঁরা তাদের প্রবেশ ফি বাবদ দেওয়া ২.৪০ ইউরো ফেরত দাবি করেন।

ইউরোপের একমাত্র লিঙ্গ-ভিত্তিক বিভক্ত সৈকত ইতালির ‘আল্লা ল্যান্টার্না’-এর স্থানীয় নাম ‘পেদোচিন’। ছবি: ডেইলি মেইল

স্থানীয়ভাবে পেদোচিন নামে পরিচিত ওই সৈকতটি একটি বড় দেয়াল দিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। একপাশে নারী ও ১২ বছর পর্যন্ত শিশুরা থাকতে পারে, অন্যপাশটি পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত। বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে দেখা করতে হলে সাঁতার কেটে সমুদ্রের গভীরে থাকা একটি নির্দিষ্ট বয়া পর্যন্ত যেতে হয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই নিয়ম চলে আসছে।

স্থানীয় নারীরা এই বিভাজনকে খুবই ইতিবাচকভাবে দেখেন। কারণ, এর ফলে তারা পুরুষদের নজরদারি ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে টপলেস সানবাথ উপভোগ করতে পারেন। ‘পেদোচিন’ শব্দের অর্থ উকুন। ধারণা করা হয়, অতীতে এই স্থানে ভ্রমণকারীরা ঘোড়ার উকুন পরিষ্কার করতেন। আবার স্থানীয় উপভাষায় ঝিনুককেও ‘পেদোচি’ বলা হয়, যার খামার কাছেই অবস্থিত। শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত এই পাথুরে সৈকতটি বয়স্কদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এটি নিয়ে ২০১৬ সালে একটি তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে।

এই ঐতিহ্যবাহী সৈকতটি স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ হলেও, বাইরের পর্যটকদের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে এর সংঘাত মাঝেমধ্যেই এমন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

যেসব ভুলে আরও রোমাঞ্চকর হলো বেইলির ভ্রমণ

চালু হচ্ছে ২০ ঘণ্টার বিরতিহীন ফ্লাইট, কী আছে এই উড়োজাহাজে

আঞ্চলিক বিমান চলাচল হাব হওয়ার দৌড়ে দুই দেশ

মব ফুটবল: ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত ফুটবলের অশান্ত শৈশবের নিদর্শন

এবার আর্কটিক অভিযানে সালাহউদ্দিন সুমন ও নিলয়

রোমাঞ্চকর ট্রেইল মূরনখল

নারী সলো ট্রাভেলারদের জন্য সেরা ১০

সুফি নাইটস উদ্‌যাপন করল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট

বিশ্ব মঞ্চে কুরাসাও

আমার ল্যুভ দর্শন