দক্ষিণ কোরিয়া বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিউলের রাজপ্রাসাদ, জেজু দ্বীপের আগ্নেয়গিরির প্রাকৃতিক দৃশ্য কিংবা পাহাড়ি ট্রেইল। তবে দেশটির সাম্প্রতিক পর্যটনচিত্রে এসেছে এক অদ্ভুত পরিবর্তন। জেজু দ্বীপের শান্ত ও নির্জন সৈকতে পর্যটকদের দীর্ঘ সারি খুবই সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু এই ভিড় সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে নয়। এক অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হচ্ছেন শত শত মানুষ। সেখানে স্থানীয় বেকারির তাজা সেঁকা ব্যাকেলের মিষ্টি ও সুঘ্রাণ ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে। পর্যটকেরা হাতে খালি ট্রে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন শুধু এক কামড় গরম ব্যাগেলের স্বাদের আশায়। জাঁকজমকপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটন স্পট পেরিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র এখন পাড়ার মোড়ের ঐতিহাসিক বেকারির গরম পাউরুটি, লাল শিমে তৈরি মিষ্টি পেস্ট্রি আর কম খরচের ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং কোরিয়া ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ১০০×১০০ প্রজেক্টের সমীক্ষায় পর্যটকদের রুচির এই নতুন রূপ প্রকাশ পেয়েছে। ১০০টি ভিন্ন ট্রাভেল থিমের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত এই অনলাইন ভোটে দেশটির সাধারণ মানুষ দেড় মিলিয়নের বেশি ভোট দিয়েছেন। ফলাফলে দেখা যায়, সেরা ১০টি থিমের মধ্যে চারটিতে শীর্ষে রয়েছে খাবারকেন্দ্রিক জায়গাগুলো। কোরিয়ায় বেকারি পিলগ্রিমেজ বা খাবারের উদ্দেশ্যে শহর ভ্রমণের এই ট্রেন্ডে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ড্যাজন শহরের ঐতিহাসিক বেকারি সংশিমদাং। একক দর্শনীয় স্থান হিসেবে জরিপের ভোটাভুটিতে দেশের নামকরা সব মিউজিয়াম, প্রাচীন ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ এবং রাজপ্রাসাদগুলোকে টপকে শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে এই বেকারি।
কোরিয়ার প্রথাগত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে গিয়ে দেশের প্রতিটি কোণ ঘুরে দেখার জন্য এই পাংজি সুলিয়ে বা বেকারি ভ্রমণ এখন এক নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। জিবে জল আনা এক টুকরো পেস্ট্রি বা তাজা ব্যাগেলের দাম খুব বেশি নয়। কিন্তু একটি প্রাচীন বেকারিতে সেটি খাওয়া এক দারুণ আনন্দের বিষয় পর্যটকদের কাছে। কারণ একটি ঐতিহাসিক বেকারি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরন তুলে ধরে। প্রকল্পটির সঙ্গে চালু হওয়া ডিজিটাল ইন্টারেকটিভ ম্যাপ ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে দর্শনার্থীরা এখন নিজেদের ভ্রমণের ধরন অনুযায়ী এসব জায়গা খুঁজে নিতে পারছেন। তাই দক্ষিণ কোরিয়া ভ্রমণের পরবর্তী পরিকল্পনায় রাজপ্রাসাদ আর পাহাড়ের পাশাপাশি অলিগলির মিষ্টি বেকারির জন্য কিছু সময় বাঁচিয়ে রাখা যেতেই পারে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ভিএন এক্সপ্রেস