প্রতিটি ঋতুতে যেমন আবহাওয়া বদলায়, তেমনি বদলায় খাবারদাবারের ধরন। স্বাভাবিকভাবে ঋতুভেদে খাদ্য উপকরণের উৎপাদনেও বদল আসে। অক্টোবর মাসও তার বাইরে নয়।
এ সময় শরৎ ঋতু থাকে শেষের দিকে। এগিয়ে আসতে থাকে হেমন্ত ঋতু। অক্টোবরে আবহাওয়ায় বৃষ্টি বা গরমের ভাব কেটে গিয়ে ধীরে ধীরে হালকা শীতের আমেজ শুরু হয়। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে এ সময় সর্দি, কাশি, ফ্লু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই শরীর সুস্থ, সতেজ এবং রোগমুক্ত রাখতে এই মাসে আমাদের খাদ্যতালিকায় কিছু বিশেষ মৌসুমি খাবার যোগ করা জরুরি। অক্টোবর মাসে কোন কোন খাবারগুলো পাতে রাখা ভালো এবং কেন সেগুলো খাওয়া উচিত, তা একবার জেনে নেওয়া যাক।
অক্টোবর মাসে খাওয়ার মতো অন্যতম সেরা সবজি হলো মিষ্টি কুমড়া। এতে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন থাকে, যা আমাদের শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এ ছাড়া কুমড়ার বীজে থাকা জিংক ও ম্যাগনেশিয়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর।
এই সময় বাজারে বাজারে রসালো কমলালেবু, পাতিলেবু ও বাতাবি লেবু আসতে শুরু করে। এগুলো ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঠান্ডা লাগা বা ভাইরাল জ্বরের ঝুঁকি কমানোর জন্য ভিটামিন সি অত্যন্ত জরুরি। এটি শ্বেত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
শরৎ-হেমন্তের এই সন্ধিক্ষণে আপেল ও নাশপাতি অত্যন্ত তাজা এবং পুষ্টিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। এই দুটি ফলেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় আঁশ। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকেই বাজারে টাটকা পালংশাক, মুলাশাক বা সরিষাশাকের মতো সবুজ শাকসবজি আসতে শুরু করে। পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ফোলেট ও ক্যালসিয়াম থাকে। এটি শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করে, হাড় মজবুত রাখে এবং শরীরে শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সময়ে রান্নায় আদা, রসুন ও হলুদের ব্যবহার বাড়ানো উচিত। এগুলোতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। প্রতিদিন সকালে কাঁচা আদা ও কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খেলে বা রান্নায় রসুনের ব্যবহার বাড়ালে তা শরীর ভেতর থেকে গরম রাখে এবং গলার খুসখুসে ভাব বা কাশি উপশম করে।
অক্টোবরের হালকা ঠান্ডা সকালে নাশতা হিসেবে ওটসের মতো গরম ও আঁশযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া ভালো। এগুলো দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে এবং শরীরে টেকসই শক্তি জোগান দেয়। এর ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে অর্থাৎ অক্টোবর মাসে শরীর সুস্থ রাখতে যেমন কিছু খাবার পাতে রাখা জরুরি, ঠিক তেমনি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ধরে রাখতে কিছু খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা এড়িয়ে চলা উচিত। এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায় এবং সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা ঠান্ডা আমেজ থাকে। তাই ফ্রিজের ঠান্ডা পানি, আইসক্রিম বা কোমল পানীয় পান করলে আচমকা বুকে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। এটি গলাব্যথা, টনসিল ও সাইনাসের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। অক্টোবরের আবহাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়ায়। রাস্তার ধারের খোলা খাবার, ফুচকা বা চটপটিতে ধুলাবালু ও জীবাণু সহজে মেশে। এ ছাড়া বাসি খাবারে দ্রুত ফাঙ্গাস পড়ে যায়, যা খেলে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সূত্র: গুড ফুড, হাউস অ্যান্ড গার্ডেন ও অন্যান্য